সুপ্রভাত ডেস্ক >>
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, আধুনিক ডাস্টবিন ও ওয়াশ ব্লক স্থাপনসহ পর্যটকদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে সৈকত এলাকায় সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। পরে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও নাগরিকরা ঝাড়ু হাতে সৈকতের ওয়াকওয়ে ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনসহ জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লিন বাংলাদেশ এবং স্থানীয় নাগরিকদের প্রতিনিধিরা।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে সৈকতের পরিচ্ছন্নতা, খাবারের মান ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে পর্যটকদের কিছু অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, “পতেঙ্গা সৈকতকে আধুনিক ও মনোরমভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানকার সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনা হবে। আধুনিক ডাস্টবিন ও প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হবে। আমরা এর একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান চাই।”
ডিসি জাহিদ বলেন, সৈকতের দোকানগুলো নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে পরিচালনা করতে হবে। খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট দোকানকে নোটিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকা দোকানের সংখ্যাও কমানো হবে।
তিনি বলেন, “যারা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলতে পারবে, তাদের দোকান থাকবে। যারা পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সৈকতের নিরাপত্তা বাড়াতে আনসার সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজনে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা এখানে আসুন, আনন্দ করুন এবং নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করুন। তবে মনে রাখবেন, আপনার জীবন আপনার কাছেই সবচেয়ে মূল্যবান। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশনা মেনে চলুন।”
সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। উন্নত দেশের নাগরিকরা যেমন সৈকতকে নিজেদের সম্পদ মনে করে রক্ষা করেন, তেমনি এখানেও পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, “এটি শুধু আমার বা আপনার দায়িত্ব নয়। সবাই দায়িত্ব পালন করলে পতেঙ্গা সৈকতের পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব। আমরা কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পতেঙ্গার পরিবেশ রক্ষা করতে চাই।”
‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার লক্ষ্যে গত ২৫ জুলাই থেকে জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে জেলা প্রশাসন। এর আওতায় সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুকুর ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।




















































