বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
টপ নিউজ

চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

সুপ্রভাত ডেস্ক »
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম নগরী শুষ্ক মৌসুমে যে রকম থাকে সে রকমই আছে। প্রবর্তক মোড়ের এখানে খাল নির্মাণের কারণে একটু জলাবদ্ধতা হয়েছিল। এখন নিষ্কাশন হয়েছে। আমি নিজে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে এসেছি। যেটুকু পানি আছে আজ ও আগামী কাল সকালের মধ্যে এটাও নিষ্কাশন হয়ে যাবে।
বুধবার (২৯  এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী প্রবর্তক মোড়ের জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ctg2প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি মিডিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আপনারা যেভাবে নিউজটি করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে চট্টগ্রাম শহর পানির ওপর ভাসছে। আমি চট্টগ্রাম এসে ঘুরে দেখলাম সন্ধ্যার পর থেকে। চট্টগ্রাম শহর পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম শহর সুন্দর আছে, যে রকম ছিল সে রকমই আছে। হঠাৎ করে অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা পানি জমাট বাঁধলেও সঠিক সময়ে পানিটি নিষ্কাশন হয়ে গেছে।

৬০ কিলোমিটার আয়তনের একটি সিটি করপোরেশন। আমরা পায়ে হেঁটে যেটুকু পানির মধ্যে আমি হাঁটলাম এটা ৬০ ফুটও হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গা হবে। আমি নিজে পায়ে হেঁটে এর মধ্যে দিয়ে এসেছি। একগোছা পানি হবে। এটাও যে কারণে হয়েছে আমি ব্যাখ্যা দিচ্ছি আপনাদের কাছে।আপনারা জানেন, সিটি করপোরেশনের অনেক খালের মধ্যে ৩৬টি খাল সংস্কার, পুনর্নির্মাণ, পানি প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যেটা সংক্ষেপে সিডিএ। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানপাওয়ারের ঘাটতি থাকার কারণে তারা ২০১৬ সালে প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন শুরু করে। ২০১৯ সালে সমাপ্ত না হওয়ায় টাইম বর্ধিত হয়ে ২০২২ সাল হয়। ২২ সালে সমাপ্ত না হওয়ায় এটি ২০২৪ করা হয়। ২৪ সালেও সমাপ্ত না হওয়ায় ২০২৬ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। সময়ে সময়ে টাকার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমি ওই দিকে আর যাচ্ছি না। আমার কাছে যেটুকু রিপোর্ট রয়েছে ৩০টি খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

৫টি খালের কাজ এমন পর্যায়ে আছে সেটি খুব একটা পানিকে বিঘ্ন ঘটাবে না। আমরা যে খালের কাছে দাঁড়িয়ে আছি এটি ৩৬টি খালের মধ্যে যে ছয়টি খাল বাকি আছে তার মধ্যে একটি, হিজড়া খাল। আপনারা জানেন খাল নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ করার সময় যখন আপনি কনস্ট্রাকশন করবেন স্টিল স্ট্রাকচার মাধ্যমে রিটেইনিং ওয়াল ব্যারিকেড তৈরি করতে হয়। যাতে উল্টো দিক থেকে মাটি বা কাদা পানি এসে কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ককে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। ঠিক এ খালটিরও মাঝখান দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল।

ইঞ্জিনিয়ারিং কোর সেনাবাহিনী মনে করেছিল ১৫ মের মধ্যে তারা কাজটি সম্পন্ন করে রিটেইনিং ওয়ালটি উইথড্র করে নিয়ে খালটি সচল করবে। হঠাৎ মহান আল্লাহর সৃষ্টি বর্ষার আগে অতিবৃষ্টি হয়ে যাবে এটি না আমরা জানতাম, না ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের লোকজন জানত। এখন যেহেতু ঘটনা ঘটেছে। দুই একদিন হয়তো এ এলাকার মানুষ একটু কষ্ট পেয়েছেন। এখন পানি নিষ্কাশন হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তারা রিটেইনিং ওয়াল যেটি দেওয়া আছে স্টিল স্ট্রাকচারের সেগুলো উইথড্র করে খালটি সচল করে দেবে। বর্ষা মৌসুম পার হওয়ার পরে শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার আগে তারা আবার তাদের পুরোনো প্রক্রিয়ায় ফিরে গিয়ে খালটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ করবে।

নগরবাসীর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সিটি করপোরেশনের মধ্যে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট কাজ করে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যেটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে। সিটি করপোরেশন যেটি আমাদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ওয়াসা কাজ করে যেটি আমাদের অধীনে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু খাল রয়েছে। এখন সাধারণ মানুষ চিনে একটা ব্যক্তিকে, মেয়র। জলাবদ্ধতা হলে মেয়র। ওয়াসার কোনো প্রবলেম হলে মেয়র। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমস্যা এটার জন্য দায়ী মেয়র। আসলে এই যে ঘটনা যেটুকু ঘটেছে, সামান্য একটু কষ্ট মানুষ পেয়েছে এটার জন্য কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কিন্তু আমি তাদেরও দায়ী করতে চাই না। তারা মনে করেছিল, ১৫ মে’র মধ্যে এটা অপসারণ করলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যেহেতু হয়নি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ছোট্ট একটি ঘটনার জন্যে উনার অনেক বড় মহানুভবতা এবং জনগণের প্রতি দরদ থেকে উনি মহান সংসদে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমার মনে হয় এরপরে আমি একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমার আর বলার কিছু আছে বলে মনে করি না। আমি এখনি সিটি করপোরেশনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে মিটিং করবো। আগামী দিনগুলোতে এবং বর্ষা মৌসুমে যাতে জলাবদ্ধতা না হয় এবং চট্টগ্রাম নগরবাসী যাতে স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে এ ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সিটি গভর্নমেন্টের দাবি নতুন নয়। এটা প্রায় ১৫-৩০ বছরের দাবি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র ৭০ দিন হয়। এটা নিয়ে আমরা গবেষণা করব। প্রয়োজনে টেকনিক্যাল কমিটি করব। বিশেষজ্ঞ কমিটি করব। সব মিলিয়ে আমরা দেখব। সিটি গভর্নমেন্ট যদি জনগণের যদি মঙ্গল হয় তাহলে অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী উনি এ বিষয়ে অবশ্যই পদক্ষেপ নেবেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।