মহানগর

গণশুনানিতে অসহায় মানুষের পাশে ডিসি জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক >>

কেউ চান মাথা গোঁজার ঠাঁই, কেউ সন্তানের চিকিৎসার টাকা। আবার কেউ উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে চান আর্থিক সহায়তা। এমন নানা সমস্যা নিয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ।

---------

গণশুনানিতে তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আবেদনপত্র নেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেকের পারিবারিক, আর্থিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি। পরে প্রয়োজন বিবেচনায় কয়েকজনকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সারাবান তাহুরা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন মেয়েকে নিয়ে তিনি অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। নিজের কোনো জমি বা বসতভিটা নেই। সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান তিনি। পূর্ব চাম্বল আশ্রয়ণ প্রকল্পে সাময়িকভাবে থাকলেও ঘরটি অন্য ব্যক্তির নামে বরাদ্দ থাকায় সেটিও ছাড়তে বলা হয়েছে। তাই সরকারি খাস জমিতে ঘর নির্মাণ বা পুনর্বাসনের আবেদন করেন তিনি।

চন্দনাইশের রাজীব দাশ সন্তানের জন্মগত হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের জন্য আর্থিক সহায়তা চান। অর্থের অভাবে সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলে জেলা প্রশাসককে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান মিয়া উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন। বাবা-মা দুজনই মারা যাওয়ায় তাঁর পড়াশোনার ব্যয় বহনের মতো পরিবারের কেউ নেই।

এ ছাড়া প্যারালাইসিসে আক্রান্ত পটিয়ার রাজমিস্ত্রি আজিজুল হক, স্ট্রোকে আক্রান্ত ফটিকছড়ির হাফেজ মো. আবু তাহের, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত পিয়া আকতার এবং দুর্ঘটনায় আহত উম্মে সানিয়া পুষ্পসহ আরও কয়েকজন চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে আসেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো সরাসরি জানা এবং সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে যতটা সম্ভব দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। জরুরি ও মানবিক বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গণশুনানিতে আসা মানুষের মধ্যে কারও প্রয়োজন একটি নিরাপদ আশ্রয়, কারও সন্তানের চিকিৎসা, আবার কারও প্রয়োজন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সহায়তা। জেলা প্রশাসকের সরাসরি উদ্যোগে এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানিটি অসহায় মানুষের সমস্যা জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।