শৈল-সৈকত ও দেশগ্রাম

এসিল্যান্ড-কানুনগো নেই, টেকনাফ ভূমি অফিসে ফাইল জট

জিয়াবুল হক, টেকনাফ >>

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) ও কানুনগো—গুরুত্বপূর্ণ এ দুই পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় ফাইল জটের সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা পরিবর্তন, নামজারি (মিউটেশন) ও রেকর্ড হালনাগাদের মতো জরুরি সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

---------

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট টেকনাফ উপজেলার বিদায়ী এসিল্যান্ড বদলি হয়ে অন্য কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজের নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসিল্যান্ডের কাজও চালিয়ে নিচ্ছেন।

তবে সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলার প্রশাসনিক কাজ সামলে ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা ইউএনওর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ভূমি অফিসে জমে থাকা ফাইলের সংখ্যা বাড়ছে এবং সেবা পেতে অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অন্যদিকে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সাবেক কানুনগো অবসরে যাওয়ার পর থেকে প্রায় সাত মাস ধরে পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন সার্ভেয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কানুনগোর কাজ করছেন। ফলে ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্পত্তিতে ধীরগতি তৈরি হয়েছে।

ভূমি অফিসে নামজারি করতে আসা টেকনাফ সদরের বাসিন্দা আলহাজ্ব ওসমান গণি বলেন, “আমার জমি বিক্রির জরুরি প্রয়োজনে নামজারি করানো দরকার। গত দেড় মাস ধরে অফিসে ঘুরছি, কিন্তু বড় দুই পদের কোনো কর্মকর্তা নেই। ইউএনও স্যার অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন ঠিকই, কিন্তু উনাকে তো সব সময় পাওয়া যায় না। একটা নামজারির কেস নিষ্পত্তি হতে এখন মাসের পর মাস লেগে যাচ্ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।”

উপজেলার সাবরাং এলাকা থেকে আসা বৃদ্ধা আমেনা খাতুন বলেন, “জমির রেকর্ড হালনাগাদ করার জন্য কয়েকবার টেকনাফে আসলাম। প্রতিবারই কর্মচারীরা বলেন, স্যার বদলি হয়ে গেছেন, নতুন স্যার এখনো আসেননি। দালালেরা এই সুযোগে বেশি টাকা চাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এখানে একজন স্থায়ী এসিল্যান্ড দেওয়া হোক।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুধু টেকনাফ নয়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় ২৭টি উপজেলায় এসিল্যান্ড পদ শূন্য রয়েছে। তবে একটি বিসিএস ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ পর্যায়ে থাকায় দ্রুতই এসব শূন্য পদে স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়ন করা হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, “এসিল্যান্ড ও কানুনগো পদ দুটি খালি থাকায় ভূমি সেবা দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে—এটি সত্য। আমি নিজে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি ভূমি অফিসের ফাইলগুলো নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের পর এসিল্যান্ডের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।”

তিনি বলেন, “জনগণের যাতে বড় কোনো ভোগান্তি না হয়, সেজন্য আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদেরও ফাইল দ্রুত প্রসেস করার নির্দেশনা দেওয়া আছে।”

ইউএনও আরও বলেন, “শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়নের জন্য আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই এখানে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।”