ফিচার শিল্প-সাহিত্য

কবিতা

যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম

টি.এস. এলিয়ট
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল

যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম
বিভাজনের মধ্য দিয়ে
এখানে মৃত্যুর স্বপ্নরাজ্যে
স্বর্ণালী সুন্দর দৃশ্য পুনরায় আবির্ভূত হয়
আমি চোখগুলো দেখি কিন্তু অশ্রু দেখি না
এটিই আমার যন্ত্রণা
এটিই আমার পরিতাপ
যে চোখগুলো আমি আর কখনো দেখবো না
সিদ্ধান্তের চোখ
যে চোখগুলো আমি দেখবো না
তা না হলে মৃত্যুর অন্য রাজ্যের দ্বারপ্রান্তে
যেখানে, এই রাজ্যের মতই,
চোখগুলো আরো কিছুটা সময় টিকে থাকে
কিছুক্ষণের জন্য অশ্রুকেও ছাড়িয়ে যায়
আর আমাদের উপহাস করে ।

ইংরেজী সাহিত্যের অন্যতম কবি, নাট্যকার, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক টি.এস. এলিয়টের “ঊুবং ঞযধঃ খধংঃ ও ঝধি রহ ঞবধৎং” হচ্ছে একটি অসামান্য আধুনিক কবিতা । এটি ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে কবি এটিকে উড়ৎরং’ং উৎবধস ঝড়হমং এর অন্তর্ভুক্ত করেন । কবিতাটি মূলত শোক, স্মৃতি এবং মানসিক দূরত্ব নিয়ে একটি মর্মস্পর্শী রচনা ।

 

অনৈচ্ছিক তন্ময়

মাসুদ মুস্তাফিজ

কে তুমি আমার আনন্দরক্ষিত কিংবা
বেদনারহিত ভাবনার মনোরোগ
নিদ্রাবঞ্চিত করে উত্তুঙ্গ বাধার মুখে
দাঁড় করিয়ে দিয়েছো-
তোমাকে বিস্তর লিখে লিখে
আজ আমার কলমের কালিতে দাগ
এক বিরাট অন্ধকারে দরোজার পাশে
স্নায়ুবৈকল্যে ভূগছিÑভুল পথের আয়ুতে

কে তুমি বইয়ে পাতার ওল্টানো সকালে
সময়ের জন্মদিন পালন করে চলেছো!
কার অপেক্ষায় থাকবো-
যে অন্ধকারে ভাবনার প্রতীক্ষা
আমাকে গায়ে সাবানের অলস ফেনায়
ধুয়ে মুছে প্রাপ্তবয়সের খেলনা বানিয়ে ফেলছেÑ
সেই ক্ষতস্থানে সামান্য বিশ্রাম
নিয়ে অন্ধকার জীবিত থাকে-
এবং আলো সুরেলা হয়!

 

অপ্রাপ্ত নক্ষত্র

ইফতেখার রবিন

অভিমানগুলি চিরকাল অন্ধ কুয়াশা,
এ হৃদয় নিঃশব্দ জলের মতো কাঁপে;
ভালোবাসা তার অপ্রাপ্ত নক্ষত্র।

হেমন্তের ম্লান সন্ধ্যায়
কেউ এসে রেখে যায় একমুঠো ছায়া,
কেউ ফিরে যায় নামহীন বিষাদের ভেতরে।

কোথাও প্রিয় কেউ আছে-
দূরের কোনো জ্যোৎস্নার কিনারে,
অথবা বুকের গভীরতম নিঃশ্বাসে।

অর্ধেক আলো ঘুমিয়ে থাকে চোখে,
বাকিটুকু মেঘ হয়ে ভাসে;
আর একাকিত্ব, প্রাচীন বটের মতো,
ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলে সমগ্র হৃদয়ের আকাশ।

 

 

পৃথিবী এক বৃদ্ধাশ্রম

শাদমান শরীফ

জানালার গ্রীলটা বৃদ্ধ হয়েছে ঢেরÑ বয়োবৃদ্ধ
অগণন পুরনো স্মৃতির বরফে সে এখন হিমালয়
নাতসি হাওয়ায় জঙধরা আবরণে বসন্ত রোগের চিহ্ন
অথচ দশমী আলোয় আলোকিত রাখে ঘর।

আমার বয়স এসে লাঠিতে করেছে ভর,
আর জানালায় এসে ঠেকেছে আকাশ
প্রবৃদ্ধ জানালায় দাঁড়িয়ে যতটুকু দেখি পৃথিবীর
মনে হয়, পৃথিবীও এক জীর্ণ বৃদ্ধাশ্রম।

ক্রমশ জানালা ফুরোয়, জীবন ফুরিয়ে যায়
বৃদ্ধাশ্রমের পেটের ভেতর।