টপ নিউজ

আলীকদমে ভয়াবহ নদীভাঙন

জিও ব্যাগেও মিলছে না সুরক্ষা

সুপ্রভাত ডেস্ক »

বর্ষা এলেই যেন আতঙ্ক নেমে আসে বান্দরবানের আলীকদমের নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনে। প্রতি বছরের মতো এবারও টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মাতামুহুরী নদী ও চৈক্ষ্যং খালের ভাঙন।

---------

নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই ভাঙছে নদীর তীর। কোথাও বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, কোথাও হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়ক। আর নদীর পাড়ে বসবাসকারী শতাধিক পরিবারের দিন কাটছে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে।

বান্দরবানের আলীকদম সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাগানপাড়া এবং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের মংচিং হেডম্যানপাড়া সংলগ্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই নদীর পাড়ের মাটি ধসে পড়ছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা সরিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে নদীর তীরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকায়। জিও ব্যাগ স্থাপন করে তাৎক্ষণিকভাবে নদীর তীর রক্ষার চেষ্টা চললেও এটি এখন আর কার্যকর ফলাফল দিচ্ছে না।

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রবল স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জিও ব্যাগ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই ভাঙন শুরু হয়। এরপর ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়। কিন্তু বর্ষা শেষ হলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ আর দেখা যায় না। ফলে পরের বছর আবারও একই জায়গায় ভাঙন শুরু হয়। এভাবে বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হয়ে অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি। কেউ ঘর সরিয়ে নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ আশ্রয় নিয়েছেন অন্য এলাকায়। নদীভাঙনের কারণে অনেকের জীবিকা ও কৃষিকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো গেলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। নদীর তীর সুরক্ষায় প্রয়োজন পরিকল্পিত ও টেকসই ব্লক বাঁধ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নদীর গতিপথ ও স্রোতের প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে রক্ষা পাবে মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, এর আগে চৈক্ষ্যং খালের প্রায় ৮০ মিটার এবং আলীকদমের পশ্চিম বাগানপাড়া এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার অংশে জিও ব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে বিপুল অর্থ ব্যয় করে জিও ব্যাগ স্থাপন করার পরও নদীভাঙন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—অস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে স্থায়ী সমাধানে যাওয়া হবে কবে? এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে তাৎক্ষণিক সুরক্ষার পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তাৎক্ষণিক সুরক্ষার জন্য জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থায়ী ব্লক বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।