ফিচার এলাটিং বেলাটিং

বাবা দিবসের ছড়া

বাবা মানে

শাহীন খান

বাবা মানে স্বপ্ন বাবা মানে ছড়া
বাবা আছে সব আছে সুখে সব ভরা।

বাবা মানে পৃথিবী বাবা মানে চলা
বাবা মানে দুর্গম পথ যত দলা।

বাবা মানে কাব্য আর ইতিহাস
বাবা মানে বুক ভরে নিই প্রতিশ্বাস।

বাবা মানে বিশ্বাস কল্লোল ঢেউ
খুবই তার মায়াছায়া জানো কি তা কেউ?

বাবা মানে স্বর্গ বাবা মানে চাঁদ
বাবা আছে সব আছে মিটে যায় সাধ।

বাবা মানে শক্তি আর মনোবল
তার স্নেহ মনহরা নেই কোনো ছল!

বাবা মানে আগুয়ান শক্ত ভিত
অমরণ পাশে রন, গাই তার গীত।

 

বাবা তুমি

মজনু মিয়া

বাবা তুমি বাবা বলে
বাবা তোমার জন্য,
এই ধরাতে জন্ম আমার
আজকে আমি ধন্য।

বাবা তুমি আছো বলে
শক্তি সাহস নিয়ে,
তোমার ছায়ায় এগিয়ে যাই
তোমার নামটা দিয়ে।

বাবা তুমি পথের দিশা
মুক্তির পথে আলো,
বাবা তুমি দেখিয়ে দাও
সাদা কিংবা কালো।

 

 

আমার পৃথিবীটা

উৎপলকান্তি বড়ুয়া

সকাল বেলা
সুখের ভেলা আমার প্রিয় বাবা,
খুশিরই ফুল অতুল অতুল যায় না রে যা ভাবা!

আমার বাবা
খেলেন দাবা লুডো চয়েস আরো,
শ্যাম শফি রাম চাইলে ক্যারাম চাও-খেলতে পারো।

মুখেতে গান
কথার বাগান হাসির ফোটে ফুল,
বাবা দেখান বাবা শেখান ভালো মন্দ-ভুল।

চলা ও হাঁটা
নরম পা’টা ছিলই অবুঝ একা,
টলতে টলতে চলতে চলতে বাবার কাছে শেখা।

সুখেরই রথ
ধন সম্পদ ঘর বাড়ি ও ভিটা,
সাহস ও বল বাবা কেবল আমার পৃথিবীটা।

 

বাবার-ই হাত ধরে

অপু চৌধুরী

তোমাদের ঘরে করিডোর ছিল
পাঁচিল ছিল না তাতে
রোদ নেমে গেলে সন্ধ্যার পর
জোছনা ঝরত রাতে।

জোছনার আলো গায়ে মেখে তুমি
চড়তে বাবার পিঠে
বাবাকে বানিয়ে টাট্টুঘোড়া
কত না দিয়েছ পিটে!

কাঁধে উঠে তাঁর গুনতে শিখেছো
বেড়িয়ে এপাড়া ওপাড়া
আকাশের গায়ে কত মেঘ ভাসে
হাসে কত চাঁদ তারা।

হাঁটি হাঁটি করে হাঁটতে শিখেছো
তর্জনী ধরে তাঁর
পড়ে গেলে পথে টেনে ধরে তিনি
ওঠাতেন বারবার।

ইশকুলে তুমি প্রথম গিয়েছো
বাবার-ই হাত ধরে
তুমি ছিলে ভালো বন্ধু হয়েই
তাঁর বড় অন্তরে।

 

 

বাবার স্মৃতি

ইলিয়াস পাটোয়ারী

কোন ফাঁকে যে বিশটি বছর
হয়ে গেলো গত,
নেই মনে তা, বাবার স্মৃতি
মনে শত শত-

দিচ্ছে উঁকি দিবানিশি
দিচ্ছে সকাল সাঁঝে,
লেগে আছে বাবার হাতের
ছোঁয়া সকল কাজে।

ছাতা হয়ে মাথার ওপর
দিতেন বাবা ছায়া,
ভোলার মতো নয় তো বাবার
স্নেহ, মোহ, মায়া।

সোহাগ শাসন সবকিছুতে
ছিলেন বাবা সেরা,
আমার আদি, আমার অন্ত
বাবার স্মৃতি ঘেরা।

 

বাবার চুম

নূরনাহার নিপা

বাবা আমার ঘুমিয়ে আছে
ছোট্ট মাঠির ঘরে,
কত ডাকি বাবা বলে
নরোম-কাতর স্বরে।

আমার ডাকে দেয় না সাড়া
সে কী অঘোর ঘুম,
স্বপ্নে দেখি বাবা আমার
দিয়ে গেল চুম।

বুকের ভেতর কতো শান্তি
আহা সে কী মায়া,
আজ বাবা নেই বলে আমার
মাথায়ও নেই ছায়া।

 

বাবা ভরসায়

কেশব জিপসী

বাবার ও দুটি হাত ধরে শিখি হাঁটা,
তিনিই সরান পথে পড়ে থাকা কাঁটা।
বাবাই এগিয়ে দেন সন্মুখে যেতে,
যা চাই কুড়িয়ে আনেন সহজে পেতে।

বাবাই ধরেন মেলে রোদ্দুরে ছাতা,
ঝড়ে বৃষ্টিতে বাবাটাই হন ত্রাতা।
বাবার দেখানো চোখে আকাশকে দেখি,
বাবাই বোঝেন আমার ইচ্ছে যে কী?

আমার জন্যে বাবা ভেবে হন সাড়া,
বাবাই চেনান আমার আপন কারা?
আমাকে শেখান বাবা মন্দ ও ভালো,
বাবাই বলেন যতো খুঁজে নিতে আলো।

বাবার বুকেতে স্নেহ অফুরান জমা,
দোষ ভুল ত্রুটি বাবা করেদেন ক্ষমা।
বাবা মহিরুহ তাঁর ছায়াতেই শান্তি,
বাবা ভরসায় মুছেফেলি যতো ক্লান্তি।

 

 

বাবা ছিলো বন্ধু আমার

নূর-ই-ইলাহী

বাবা ছিলো এই দুনিয়ায় বিশাল বটের ছায়া
জীবন পথের বাঁকে বাঁকে এক সমুদ্র মায়া।
বাবা আমার নতুন জামার ভাণ্ডার অফুরান
বাবাই ছিলো বন্ধু আমার গল্প-কথার গান।

বাবার চোখে আমি ছিলাম বেঁচে থাকার আশা
শত শাসন স্বত্তেও সে এক নিবিড় ভালোবাসা।
বাবা আমার প্রথম গুরু এই পৃথিবীর মাঝে
বাবার ছিলো অনেক আদর সকাল দুপুর সাঁঝে।

আগলে ছিলো বাবা আমায় সারাজীবন ভরে
আমার দেখা বাবাই সেরা সব মানুষের ভিড়ে।
থাকলে বাবা হয়তো বেঁচে কষ্ট হতো কম
কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমি নিতাম কিছু দম।

পাঁজর ভাঙা কষ্টে বাবা ফিরতো হাসিমুখে
বাবার শ্রমে ভাইবোনেরা দিন কাটাতাম সুখে।
সেই বাবা আজ ঘুমিয়ে আছে মাটির দেশে একা
জান্নাতের সিঁড়িতে মাবুদ পাই যেন তাঁর দেখা।