দুই টিকা কেন্দ্র থেকে স্বেচ্ছাসেবক সরিয়ে নিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট

চসিক

নিজস্ব প্রতিবেদক »
চট্টগ্রামে করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে গণমাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের চিত্র উঠে আসে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের পর এবার রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক সরিয়ে নিয়েছে।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, চসিক ও টিকা দান কেন্দ্রের কিছু চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে টিকা দান কার্যক্রম। লাইন থেকে টিকা প্রত্যাশীদের টাকার বিনিময়ে টিকা দান কেন্দ্রে প্রবেশ করান। এতে টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয় ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিন দিয়ে সাথে সাথে তাদের কেন্দ্রের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। তাছাড়া টিকা প্রাপ্তির ক্ষুদে বার্তা কারো কাছে যাচ্ছে না। টাকা দিলে আবার ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। চসিক জেনারেল হাসপাতাল সম্পর্কে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে চট্টগ্রামবাসীর। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে বেশিরভাগ মানুষ দিনশেষে টিকা নিতে পারে না। যারা টাকা দিবে তারা নিতে পারবে টিকা।
এমন সব অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ তুলেছে রেড ক্রিসেন্টও। রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অক্ষুণ্ন সম্মান রক্ষার্থে চসিকের দুই টিকা কেন্দ্র থেকে স্বেচ্ছাসেবক প্রত্যাহার করেছে। রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রাম যুব প্রধান ইফতেখার হোসেন ইমু সুপ্রভাতকে বলেন, ‘চসিক কর্মচারীদের দৌরাত্ম বাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক প্রত্যাহার করে নিয়েছি। টিকা প্রত্যাশীরা ভাবছেন আমাদের স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ এসব অনৈতিক কাজে জড়িত রয়েছে। কিন্তু টিকা নিয়ে তাদের অরাজকতা ও অন্যায়ের ভাগিদার রেড ক্রিসেন্ট হতে পারবে না। তাই স্বেচ্ছাসেবক সরিয়ে নিয়েছে।’
কর্তৃপক্ষকে অবগত করার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘মৌখিকভাবে এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। দায়িত্বভার বেশি থাকায় প্রতিটি কেন্দ্র নজরে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভবপর নয়। যার ফলে দারোয়ান থেকে শুরু করে নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারীদের টিকা বাণিজ্যের দৌরাত্ম বেড়ে চলেছে।’
চসিক জেনারেল হাসপাতালে মহিউদ্দিন ও চন্দন নামে এক সিন্ডিকেটে টিকা বাণিজ্য চলছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘টিকা কার্যক্রম শুরু থেকে এমন অনৈতিক কাজ চলছে। কিন্তু দিন দিন তাদের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে। বর্তমানে তা থামানোর পরিস্থিতিতে নেই। তারা ছোট গেইট দিয়ে টাকা নিয়ে ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। অন্যদিকে সাফা মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতালে কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল্লাহ আল মনির কেন্দ্রের বাহিরে গড়ে তুলেছে সিন্ডিকেট। ক্ষুদে বার্তা না পেলে বা লাইন ছাড়া যারা থাকবে তাদের দেওয়া হবে টিকা। বিনিময়ে দিতে হবে ৬শ’ থেকে হাজার টাকা। শুধু তাই নয়। কিছু স্টাফ একসাথে ১৫ থেকে ২০ টি টিকা কার্ড এনে অর্ডার করে বলেন, এসব আমার লোক। এন্ট্রি করেন। এবং এসব এন্ট্রি করার কারণে টিকা প্রত্যাশীরা ভাবছেন এসবের মধ্যে রেড ক্রিসেন্ট জড়িত আছে।’
স্বেচ্ছাসেবক দেওয়া হবে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন সাফা মোতালেব মাতৃসদন থেকে স্বেচ্ছাসেবক সরিয়ে না নেওয়া হয়। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বৈঠক হবে। তারপর নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। তবে চসিক জেনারেল হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকের বিষয়ে কোন ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। টিকা নিয়ে তাদের এমন অরাজকতা বন্ধ করতে পারলে রেড ক্রিসেন্টের টিম কাজ করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণ টিকা প্রত্যাশীদের ভালর জন্য এই বিষয়ে সোচ্চার হতে চেয়েছি। কিন্তু অনেকে এটিকে ভিন্ন ক্ষাতে প্রবাহিত করতে চাইছে। তবে এমন স্বেচ্ছায় সেবা কার্যক্রমে কাজ করতে রেড ক্রিসেন্ট সর্বদা প্রস্তুত।’
এ বিষয়ে চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।