সুপ্রভাত ডেস্ক »
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ ও পদায়ন না হওয়া প্রার্থীরা।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে সুপারিশপ্রাপ্তরা জানান, তারা নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
পাশাপাশি নিজেদের শিক্ষক দাবি করে তারা কিছুক্ষণ পর পর ‘তুমি কে? আমি কে? শিক্ষক, শিক্ষক’ স্লোগান দিচ্ছেন।
এছাড়া স্লোগানের মাধ্যমে তাদের মৌলিক দাবির বিষয়ে বলা হচ্ছে ‘দাবি মোদের একটাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই’। কেবল এই দুটি স্লোগানে কিছুক্ষণ পর পর পুরো শাহবাগ চত্বর উত্তাল হয়ে উঠছে।
গ্রীষ্মের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে মাথায় ছাতা নিয়ে রোববার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে হাজারের বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত নিয়োগ প্রত্যাশী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি আরো বাড়ছে।
এসময় আন্দোলনের নেতারা জানান, যতক্ষণ তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হবে, ততক্ষণ তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। প্রয়োজনে শাহবাগেই তারা খাওয়া-ঘুম থেকে শুরু করে সবকিছু করবেন। তবে তারা নিয়োগপত্র হাতে না পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন না।
সুমি নামে একজন নিয়োগপ্রত্যাশী জানান, তারা প্রায় ১১ লাখ প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াই করে মাত্র ১৪ হাজারের কিছু বেশিসংখ্যক নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। যেহেতু এই পরীক্ষাটি বর্তমান সরকারের সময় হয়নি, তাই একটি মহল এটিকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার জন্য পাঁয়তারা করছে। আমাদের এত বড় পরিশ্রমের ফল আমরা কোনো কিছুর বিনিময়ে বৃথা যেতে দেব না। আজকের মধ্যেই আমাদের নিয়োগপত্র দিতে হবে। অন্যথায় আমরা আরো বড় আন্দোলনের ডাক দেব।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শাহবাগে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন প্রার্থীরা। তার আগে কর্তৃপক্ষকে তাদের দেওয়া ১০ দিনের আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে ওইদনি সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় প্রার্থীরা।
সুপারিশপ্রাপ্ত নিয়োগ প্রত্যাশীরা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। ফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ও ডোপ টেস্ট রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেন। কিন্তু আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপত্র পাননি তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নিয়োগের আশায় অনেক প্রার্থী তাদের আগের বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে নিয়োগ ঝুলে থাকায় তারা পরিবারসহ চরম আর্থিক ও মানসিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। প্রার্থীদের অভিযোগ, গত ২২ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এক ধরনের দোদুল্যমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ১ মার্চের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদ যাচাই ও পরিচিতি সম্পন্ন হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না দেওয়াকে তারা কর্তৃপক্ষের ‘প্রহসন’ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


















































