এ মুহূর্তের সংবাদ

প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

সুপ্রভাত ডেস্ক »

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়া প্রার্থীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার কথা জানান।

একইসঙ্গে প্রার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভোগান্তির বিষয়টি শুনে দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন- দেবব্রত, জান্নাতুল ইসলাম টনি, পারভেজ, আফসানা, জান্নাতুল ফেরদৌস শান্তা, ফারজানা ও শিশির।

এদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় ধীরগতির অভিযোগে উঠেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী। এ অবস্থায় দ্রুত যোগদানের দাবিতেই জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

তাদের (সুপারিশপ্রাপ্তদের) অভিযোগ, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা ও প্রহসনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তারা আরও মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

তারা বলছেন, রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের পুনঃতদন্ত শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এরপর সুপারিশপ্রাপ্তরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেন এবং মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেন। অনেকেই যোগদানের আশায় আগের চাকরি থেকেও অব্যাহতি নিয়েছেন।

এমন অবস্থায় দ্রুত নিয়োগের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এর আগে বেলা ১১টায় কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই শাহবাগে সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশের ব্যারিকেডের মধ্যে থেকেই সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

তবে ফল প্রকাশের আড়াই মাস পার হলেও এখনো যোগদানের নির্দেশনা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সুপারিশপ্রাপ্তরা। তাদের দাবি, দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনকারীরা জানান, এই দাবিতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছেন।