এ মুহূর্তের সংবাদ

‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপের বিকল্প নেই’

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬। বক্তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে এখনই কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

-advertise-

বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় ১৯৭২ সালে জাতিসংঘের ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। তবে চলতি বছর ৫ জুন পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করে।

এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Climate Action’, যার বাংলা ভাবার্থ ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’।

দিবসটি উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা এবং আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় সরকার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ এবং চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান।

পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা।

এতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা তীব্র দাবদাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া এবং গ্রিনহাউস প্রভাবের মতো চলমান জলবায়ু সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখন থেকেই পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও টেকসই জীবনধারা গড়ে তুলতে হবে। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তরুণদের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পাহাড় কাটা ও জলাশয় ভরাট বন্ধ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারা বলেন, “আজকের ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে পারে। পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় পর্যন্ত সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদ ও বই পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত অতিথিদের মাঝে পরিবেশবান্ধব বার্তা ছড়িয়ে দিতে চারাগাছ বিতরণ করা হয়।