সুপ্রভাত ডেস্ক »
চট্টগ্রামের সল্টগোলা এলাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট (NMI)-এর অডিটোরিয়ামে শনিবার (৬ জুন) কারিগরি সেমিনারের আয়োজন করা হয় ।
সেমিনারে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, মাস্টার মেরিনার, সামুদ্রিক শিক্ষাবিদ, শিপিং পেশাজীবী, শিল্পখাতের অংশীজন এবং মেরিন ক্যাডেটগণ অংশগ্রহণ করেন।
বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক বিষয়—সমুদ্রযাত্রা পেশার ভবিষ্যৎ টেকসইতা এবং পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল জাহাজ পুনর্ব্যবহার—নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে “Minimum Cadet Complement Certificate – Securing Seafarers’ Future” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপক করেন কমান্ড্যান্ট (অব.) সাজিদ হোসেন, CEng এবং “Inventory of Hazardous Materials (IHM) and its Impact on Ship Recycling” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপক করেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার এম. মাহবুবুর রহমান, CEng.
প্রথম উপস্থাপনায় Minimum Cadet Complement Certificate (MCCC) প্রতিষ্ঠার একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়, যা বিদ্যমান Safe Manning Certificate (SMC)-এর পরিপূরক হিসেবে একটি নতুন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। যেখানে SMC জাহাজের নিরাপদ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য জনবলের উপস্থিতি নিশ্চিত করে, সেখানে প্রস্তাবিত MCCC ক্যাডেটদের জন্য পর্যাপ্ত সমুদ্র-প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সমুদ্রগামী জাহাজের কর্মকর্তাদের পরিকল্পিত বিকাশে সহায়তা করবে।
উপস্থাপনায় জাহাজে প্রশিক্ষণ আসনের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট তুলে ধরা হয় এবং সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে ক্যাডেট প্রশিক্ষণের বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। প্রস্তাবটির লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক সামুদ্রিক জনশক্তির দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নিশ্চিত করা, পেশাগত মান বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পের জন্য দক্ষ কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করা।
অপর উপস্থাপনায় Inventory of Hazardous Materials (IHM) এবং নিরাপদ, পরিবেশসম্মত ও টেকসই জাহাজ পুনর্ব্যবহারে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে IHM-এর উদ্দেশ্য, কাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তার একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয় এবং জাহাজের সমগ্র জীবনচক্র জুড়ে বিপজ্জনক উপাদান শনাক্তকরণ, নথিভুক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনায় এর ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
বিশেষভাবে Hong Kong International Convention for the Safe and Environmentally Sound Recycling of Ships এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিতকরণে IHM-এর অবদানের ওপর আলোকপাত করা হয়।
উপস্থাপনায় আরও দেখানো হয় যে কার্যকর IHM বাস্তবায়ন কীভাবে জাহাজমালিক, জাহাজ পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক এবং সামগ্রিক সামুদ্রিক শিল্পের জন্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং বিধিবদ্ধ অনুবর্তিতা বৃদ্ধি করে উপকার বয়ে আনে।
সেমিনারে আইমারেস্ট-এর সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন সামুদ্রিক ও শিপিং সংস্থার প্রতিনিধি, শিল্পখাতের পেশাজীবী এবং একাডেমিয়ার সদস্যদের উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণ করেন ।
অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এবং মাস মেরিন একাডেমির প্রশিক্ষণরত ক্যাডেটদের সক্রিয় উপস্থিতি, যা সামুদ্রিক শিল্পের চলমান উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।
উপস্থাপনাগুলোর পর একটি প্রাণবন্ত ও অত্যন্ত আন্তঃক্রিয়ামূলক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং মূল্যবান মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। মূল বক্তা এবং জ্যেষ্ঠ সামুদ্রিক পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে আলোচনা আরও সমৃদ্ধ হয় এবং এটি পেশাগত মতবিনিময় ও জ্ঞান ভাগাভাগির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
সেমিনারে আইমারেস্ট বাংলাদেশ শাখার নেতৃত্ব ও নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। সম্মানী সহকারী সম্পাদক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আতীকুর রহমান চৌধুরী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। কর্মসূচির সমাপ্তিতে ভাইস চেয়ারম্যান মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ এম. ফেরদৌস খান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।।


















































