
সুপ্রভাত ডেস্ক »
চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে আহলে বায়তে রাসূল (দ.) স্মরণে ১০ দিনব্যাপী ৪১তম আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের চতুর্থ দিনে শনিবার (২০ জুন) সভাপতিত্ব করেন, অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ রুহুল আমিন (ছারছিনা দরবার শরীফ)।
মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মুহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, মিথ্যা, অন্যায়, অরাজকতা রুখে দিয়ে সর্বাবস্থায় সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকাই শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা। জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন প্রয়াত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
মাত্র ১ টাকার প্রতীকী মূল্যে এই মসজিদের জায়গা দিয়েছিলেন তিনি। শহীদ জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের এই মসজিদকে আন্তর্জাতিক ইসলামী কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। অথচ বিগত সরকার এই মসজিদের উন্নয়ন করেনি। বর্তমান সরকার এই মসজিদকে আন্তর্জাতিক ইসলামী কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রয়াস চালিয়ে যাবে বলে তিনি মতব্যক্ত করেন।
তিনি জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের প্রবর্তক খতিবে বাঙাল আল্লামা জালালউদ্দীন আলকাদেরী (রহ) এর অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং এই মাহফিলের চেয়ারম্যান ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক আলহাজ¦ সূফি মিজানুর রহমানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
১০ মহররম কারবালা প্রান্তরের স্মৃতিচারণ করেন ইসলামী চিন্তাবিদ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ফরিদী।
তিনি বলেন, সেদিন ইমাম হোসাইন (রা) যদি ইয়াজিদের সঙ্গে আপস করতেন ও মাথানত করতেন তাহলে আজ আমরা দ্বীন ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারতাম না। দ্বীনের জন্য জীবন উৎসর্গ করবো কিন্তু আপস করবো না এটাই শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা। কারবালার মর্মন্তুক ঘটনার কথা স্মরণে এলে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটে। ইমাম হোসাইনের (রা) পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদেরকে দ্বীন ইসলামের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে যেতে হবে।
হযরত মা ফাতেমা (রা) এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার ফকিহ আল্লামা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রেজভী।
তিনি বলেন, নারী জাতির মর্যাদা সমুন্নত করেছে ইসলাম। খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমা (রা) নারী জাতির জন্য আদর্শ ও মডেল স্বরূপ। নারী জাতি ইসলামের নির্দেশনা মেনে চললে মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপনে সক্ষম হবে।
ইসলামের দৃষ্টিতে আহলে বায়াতের সম্মান নিয়ে আলোচনা করেন বোয়ালখালী দরবার শরীফের সাজ্জাদনশীন শাহজাদা শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদুল হক।
তিনি বলেন, যারা আহলে বায়তকে প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসবে তারাই জান্নাতের ভাগীদার হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা রুহুল আমিন বলেন, কারবালার শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমাদেরকে ঈমানী জজবা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
মাহফিলে অতিথি ছিলেন, ছোবহানিয়া আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা হারুন-উর-রশিদ, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দীন, আমির ভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহ্সূফী সৈয়দ মুহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা শাহ্, এম আই সি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোয়েব রিয়াদ, সমাজসেবক সৈয়দ সেহাব উদ্দিন আলম, ফরজানা ফ্যাশন এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সেলিম, আনজুমান ট্রাস্টের সদস্য আর. ইউ. চৌধুরী শাহীন, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা গোলাম মোস্তফা মুহাম্মদ নুরুন্নবী, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ জুন্নুরাইন, এস. এস. গ্রুপের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ।
মাহফিলের প্রচার সম্পাদক দিলশাদ আহমদের নির্মিত বিগত মাহফিলগুলোর ওপর এক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ড. জাফর উল্লাহ ও হাফেজ মুহাম্মদ ছালামত উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ¦ খোরশেদুর রহমান, আলহাজ¦ মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, আলহাজ¦ পেয়ার মুহাম্মদ, প্রফেসর কামাল উদ্দীন আহমদ, আলহাজ¦ মুহাম্মদ দিলশাদ আহমেদ, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাফেজ আহমদুল হক, মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন, মুহাম্মদ সিরাজুল মুস্তফা, মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন, আব্দুল হাই মাসুম, জাফর আহমদ সাওদাগর, তৈয়ব মোহাম্মদ তাহসিন, আবুল মনসুর সিকদার, মাহবুবুল আলম, মুহাম্মদ মাইন উদ্দীন মিঠু, মুহাম্মদ নাজিব আশরাফ, মিলন মেহেদী, এডভোকেট রাশেদুল আলম, মুহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, জহির উদ্দীন, মুহাম্মদ শরফুদ্দীন, মুহাম্মদ ফিরোজ প্রমুখ । সালাত সালাম শেষে দেশ জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশে^র মজলুম মানুষের পরিত্রাণ কামনায় মুনাজাত করা হয়
















































