ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানের রংধনু জাতি গঠনের প্রত্যয়ের বাস্তব প্রতিফলন আমরা হাটহাজারীতে দেখতে পাই।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়(চবি) ক্যাম্পাসে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো মানুষকে ধর্ম বা বর্ণ দিয়ে আলাদা করে দেখতে চাই না।
সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ সরাসরি তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শন গ্রহণ করেই বিপুল ভোটে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম অত্যন্ত ভাগ্যবান। এই প্রথম আমরা একই সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পেয়েছি। আমরা চাই পুরো চট্টগ্রামকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে।
তিনি আরও বলেন, ১৭ বছরের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখন সময় ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার। হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি জনগণ আর গ্রহণ করবে না। মানুষ চায় উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দেই না, আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করি। চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এছাড়া অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরীও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ২০১১ সালে সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চবির উত্তর ক্যাম্পাস এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমিতে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে এটি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে পাশ হয়। এরপর অদুল-অনিতা ট্রাস্টের অর্থায়নে নির্মিত এই মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।



















































