বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
ফিচার শিল্প-সাহিত্য

কবিতা

হয়তো চলে যাবো বেখেয়ালি বেশে

নিঃশব্দ আহামদ

চোখের নিচে হুড়মুড় ভেঙে পড়ছে এ আকাশ,
গুড়িয়ে যাচ্ছে এ ঘর
ছিঁড়ে যাচ্ছে এইসব পথ,
স্রোতের মতোন কোনো ঝড়ে
আর আমি ধ্বংসের তাণ্ডব লীলায় শুয়ে আছি
যার মৃত্যু হয়েছে একটু আগে

আটকে পড়ে আছি, এভাবে বহুকাল
মড়কের ভেতর, শুধু অন্ধকার-
আর আমি কাঁদলাম
শুধু দেখবার এতোটুকু আলো,
যার ঝলকানিতে ক্রমাগত ঝরে পড়ে ফসফরাস-

আহতবেশ, ছটফট অবিরাম দিনমাণ
কেটেকুটে ঘরবন্দি ফেলে গেছে যেনো আমায়
মাকড়সার জাল হয়ে কিছু সংশয়বোধ,
ছড়িয়ে এখানে ওখানে-
আর শরীরময় প্রবাহিত বরফ হিম

না আর বহুবর্ষ, কাছের কোনোদিন
তরঙ্গহীন হলে আষাঢ়ের নদী,
ভাঙছে না জলের সিঁড়ি
নীরবতায় শুয়ে থাকা মৃতনদীরূপ
হয়তো বেখেয়ালি বেশে চলে যাবো,
ছেড়েছুঁড়ে বেঁচে থাকার আহলাদ

 

 

বাবলার ছায়ামেঘে

বশির আহমেদ

দ্বিপ্রহরে ছুঁয়ে যায় পান্থপাদপের প্রেম
সিকামোরের শুকনো ডালায় ঝুলে আছে বিষন্ন মানচিত্র।
খরতাপের সিঁড়ি ভেঙে
নেমে আসে বৈশাখী তাণ্ডব!
জামরুলের ছায়ায় অনুবাদ করি আসশেওড়া জীবন।
আমি হিজল গ্রামের মানুষ!
স্মৃতিরোমন্থনে সহাস্য জীবনের সুর তুলে পরিত্যক্ত গলুই,
বাবলার ছায়ামেঘে ধ্যান করে
প্রজাপতি দুপুর!

 

 

উপসচিব

দ্বীপ সরকার

বাদামী টাওয়ারে বসে আছে আজরাইল
গাণিতিক সুত্র নিয়ে ভাবছে
মানুষের সংখ্যা, এতো দীর্ঘ হচ্ছে কেন!

টাওয়ার বাড়ির মালিক অতিশক্তিধর, উপসচিব
আয়ুর কোন সীমানা প্রাচীর নেই তার
বয়সের ভারে কুঁজে গেছে মেরুদণ্ড
সদর্পে, হেলেদুলে অফিস করেন
ভাবেন, কাঁচঘরে নিজের সংসার ঢুকিয়ে দিয়ে
একদিন ঈশ্বরকে দাঁত কেলিয়ে বলবেন-
“আয়ু বলে কিছু নেই পৃথিবীতে”

ভাবেন, কুমিরের পেটের সুগভীরে রেখে আসি সংসার
কুমিরের চকমকি দীর্ঘ দাঁত
সজারুর কাঁটার মতোন ঘিরে রাখবে তাকে

টাওয়ারে বসে আজরাইল হাসে
ঈশ^রের আদালতে পিনপতন নিরাবতা

প্রথমে, আজরাইল কুমিরের নদী খোলে
জলসড়কে প্রচুর ভিড়ভাট্টা. যানজোট
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাছ, বড় মাছ, কুমির আরো অসংখ্য জলজ প্রাণী
অতঃপর কাঁটাযুক্ত বিশালকায় সেই কুমির খুঁজে পায়
দেখলেন, কুমিরের পেটে উপসচিব নেই

এরপর
আজরাইল মহোদয়, পৃথিবীর সমস্ত কাঁচঘর খুঁজে খুঁজে
রেসকোর্স ময়দানে একত্রিত করেন,
শেষ প্রান্ত থেকে একটি কাঁচঘর কেঁপে ওঠে
আজরাইল হাসে- রেসকোর্স ঝলকে ওঠে
ঈশ্বর তার কুরসিতে বসে হাসছে, হেলেদুলে

 

অসীম শূন্যতার ভিড়ে

শারমিন নাহার ঝর্ণা

অসীম শূন্যতার ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলি
বিষণ্নতা ঝুলে থাকে হৃদয় দেয়াল জুড়ে
মাকড়সার জালের মতো।
বাদুড়ের মতো উড়ে বেড়ায় কিছু দুঃখ,
এই হৃদয় আঙিনা যেন প্রাচীন প্রাসাদ
সুখগুলো ফ্যাকাসে হয়ে ঝুলছে
পুরনো ঝাড়বাতির মতো।
অথৈ শূন্যতায় ছেয়ে আছে প্রাসাদের কক্ষ,
নিজেকে তখন বিধ্বস্তপুরির মানবী মনে হয়।
অসীম শূন্যতায় প্রতিদিনই হৃদয় পুড়ে যায়,
কিন্তু এই হৃদয় পোড়ার গন্ধ কেউ শোনে না।
নীরবে শুধু দীর্ঘশ্বাসে ভস্ম ওড়াই।

 

জল জ্যোৎস্নায়

বিটুল দেব

জলের যৌবনে জেলেরা ফেলে জাল।
ব্যাঙের লালমাংস বেঁধে আমি ফেলি কাঁকড়ার বড়শি। কেউ কেউ ঊর্মির তালে তালে ধরে গান।
আমি ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো বসে থাকি কাঁকড়ার আশায়।
কাঁকড়ার বড়শি আর মাছের বড়শি সম্পূর্ণ বিপরীত। মাছের বড়শি জোরসে দিতে হয় টান আর কাঁকড়ার বড়শি টানি ধীরে ধীরে।

নগরে নিয়ে এসেছে নিয়তির চাকা।
জলের যৌবন এখন বিষাদস্মৃতি।
জ্যোৎস্নার যৌবন আর কবিতার যৌবনে ছিনিয়ে নেয় ঘুম।
নৈঃশব্দ্যের নরোম মনে ফেলি শব্দের বড়শি। কবিতায় ধরি মাছ…কবিতায় ধরি কাঁকড়া।