সুপ্রভাত ডেস্ক »
নগরীর অক্সিজেন-কোয়াইশ সড়কে ফুটপাত ও পানি চলাচলের ড্রেন দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
সোমবার (২২ জুন) ওই সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ফুটপাত ও ড্রেন দখলমুক্ত করতে সিডিএ কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, অপকর্ম করবে কিছু মানুষ, আর দায় নিতে হবে সিডিএকে। এই ড্রেনগুলো তো সিডিএর কেউ এসে বন্ধ করেনি। যেখানে রাস্তার পানি নামার কথা, সেখানে পথ বন্ধ করে সড়ককে ড্রেনের চেয়ে উঁচু করে ফেলা হয়েছে। ড্রেনের প্রবেশমুখ ময়লা-আবর্জনা দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। এতে পানি চলাচলের স্বাভাবিক ঢাল নষ্ট হয়ে গেছে।
জানা যায়, সোমবার সকালে সিডিএ চেয়ারম্যান অক্সিজেন-কোয়াইশ সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের শুরুতেই তিনি সড়কের প্রবেশমুখে ফুটপাত দখল করে বসানো কয়েকশ অবৈধ দোকান সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
উপস্থিত দখলদারদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলের কারণে চার লেনের এই সড়ক অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে দুটি গাড়ি একসঙ্গে চলাচল করতে পারছে না। এখানে সারি সারি ফল, জুতা ও কাপড়ের দোকান বসানো হয়েছে। পেছনের স্থায়ী দোকানগুলোর মালিকরা অবৈধভাবে এসব দোকান থেকে ভাড়া আদায় করছেন। একইসঙ্গে তারা ময়লা-আবর্জনা ফেলে পুরো সড়ক নোংরা করছেন। ড্রেনগুলো ঢালাই করে দোকানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে ড্রেনের স্লাব খোলার ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে।
জনদুর্ভোগ লাঘবে সিডিএর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত করে যাব, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং বৃষ্টির সময় পানি দ্রুত ড্রেনে নেমে যেতে পারে।
এ সময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন থেকেই তোমাদের সচেতন হতে হবে। রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা যাবে না। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে কোনো দোকানদারকে সামনের ড্রেনে ময়লা ফেলতে দেখলে তাকে নিষেধ করবে। বলবে, কেন রাস্তা ও ড্রেনে ময়লা ফেলছেন? আপনারা যেমন নিজেদের বাসা ও দোকান পরিষ্কার রাখেন, তেমনি দোকানের সামনের অংশও পরিষ্কার রাখতে হবে।
এ সময় তিনি সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল ও সচিব মাহবুবউল করিমকে দখল হওয়া ড্রেনের ঢালাই ভেঙে তা দ্রুত উদ্ধার করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে ড্রেনগুলোতে স্লাব বসানোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি ড্রেনে ময়লা ফেলে এবং দোকানের সামনের অংশ পরিষ্কার না রাখে, তবে তাকে জরিমানার আওতায় আনা হবে।
পরিদর্শনকালে সিডিএ চেয়ারম্যান অক্সিজেন-কোয়াইশ সড়কের সংস্কারকাজে ব্যবহৃত ইট, বালু ও সিমেন্টের গুণগত মান নিজে যাচাই করেন এবং সংশ্লিষ্টদের টেকসই ও মানসম্মত কাজ করার নির্দেশ দেন। পরে তিনি অনন্যা আবাসিক এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সড়কের কোয়াইশ প্রান্তে একটি পানির ফোয়ারা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ফোয়ারাটির নকশা আরও নান্দনিক ও আকর্ষণীয় করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।


















































