সুপ্রভাত ডেস্ক >>
কবিরা সুদূরের যাত্রী, আর তাদের কবিতা নির্মাণ করে ভবিষ্যতের দার্শনিক ভিত। কবিতা কেবল নন্দনতত্ত্ব, প্রেম-প্রণয় কিংবা প্রকৃতি বন্দনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—কবিতা রচনা করে বিপ্লবের ইস্পাতকঠিন রাজপথ, বিনির্মাণ করে বিপ্লব ও মানবমুক্তির দার্শনিক ভিত। চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র আয়োজিত মহান জুলাই বিপ্লবের মদদদার ও কলমযোদ্ধা কবি সৈয়দ আহমদ শামীম কবিতা সন্ধ্যায় কবি ও চিন্তকবৃন্দ এমন মন্তব্য করেন।
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশস্থ মাটি মিলনায়তনে এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্র সভাপতি, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও জুলাই বিপ্লবের বীর সেনানী ইসমাইল চৌধুরী।
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। কেন্দ্র মহাসচিব সাইফুল্লাহ সায়েম এবং নোঙর সম্পাদক আবু সাঈদ হাননানের পরিচালনায় কবির কবিতা, চিন্তা ও দর্শন নিয়ে কথামালা উপস্থাপন করেন চিন্তক ও কবি মীযানুর রহমান মীযান, প্রকাশক আমীরুল ইসলাম, কবি ও সম্পাদক মাঈন উদ্দিন জাহেদ, চিন্তক আমিনুল ইসলাম নজীর, কবি সারওয়ার কামাল, সাহিত্যের শিক্ষক রেফায়েত কবির শাওন, কবি মোসলেহ মহসিন এবং জুলাইযোদ্ধা এস এম সুজা প্রমুখ।
কবি সৈয়দ আহমদ শামীমের কবিতা আবৃত্তি ও তার রচিত গীতিমালা পরিবেশন করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিজন ও আবৃত্তি প্রশিক্ষক মোসতাক খন্দকার, আবৃত্তিকার ও শিক্ষক রুম্মান মাহমুদ, আবৃত্তিকার রাশেদ মুহাম্মদ, আবৃত্তিশিল্পী শাওকী ইবনে সাফওয়ান, আবৃত্তিশিল্পী সাইমুম মুরতাজা এবং শিল্পী শাব্বির আহমদ।
আলোচনায় প্রাবন্ধিক-অনুবাদক আমীরুল ইসলাম বলেন, কবি সৈয়দ আহমদ শামীমের জুলাই বিপ্লবে যে শিল্পিত সংগ্রাম, তা পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয় ও উদ্দীপনার। কবি ও চিন্তক মীযানুর রহমান মীযান বলেন, কবি সৈয়দ আহমদ শামীমের কবিতার একাডেমিক চর্চা হওয়া প্রয়োজন, এবং তরুণ লেখকদের এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। চিন্তক আমিনুল ইসলাম নজীর বলেন, কবি সৈয়দ আহমদ শামীমের আজীবনের অভীপ্সা হলো অথেনটিক জীবনের পথে হাঁটা। কবি মাঈন উদ্দিন জাহেদ বলেন, সত্যি বলতে কী, কবি সৈয়দ আহমদ শামীমকে তিনি ঈর্ষা করেন—কবির কবিতার শরীর, ভাষা ভাব এবং যে মুগ্ধতার আবেশ তৈরি করে, তা একজন প্রচণ্ড শক্তিশালী কবি হিসেবে তাকে ঈর্ষার পাত্র করেছে। আবৃত্তিশিল্পী ও প্রশিক্ষক মোসতাক খন্দকার বলেন, মুসলিম জাগরণের কবি বা বাংলাদেশি কবি হওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো কবির কবিত্ব। সভাপতির বক্তব্যে ইসমাইল চৌধুরী বলেন, জুলাই বিপ্লবে তার অ্যাক্টিভিজমকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে কবি সৈয়দ আহমদ শামীমের কবিতা।
কাব্য আলোচনায় আরও উঠে আসে কবির শেকড়সংলগ্নতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিকতার বিষয়টি। বক্তারা মন্তব্য করেন, সৈয়দ আহমদ শামীম জুলাইয়ের রক্তঝরা বিপ্লবের দার্শনিক ভিত নির্মাণ ও তা স্থায়ী করার এক নিরলস কলমযোদ্ধা, এবং তার এই প্রচেষ্টা মহাকালের সোনালি তোরণে তার প্রবেশ সহজতর করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি হোসাইন আকতার ছোটন, কবি আরমানুজ্জামান, বশির উল্লাহ সাইমুমসহ চট্টগ্রামের অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী। সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।






















































