পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি >>
বিয়ের এক বছর পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন শামীম। কিন্তু সেই যাত্রাই তাঁর জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হলো। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা চ্যানেলের মগনামা জেটিঘাটে বোটে ওঠার সময় পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মগনামা জেটিঘাটের নিচে ডুবে যাওয়া স্থান থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচ সদস্যের ডুবুরি দল। সকাল ৬টা থেকে তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নিহত শামীম ভোলা জেলার বাসিন্দা মোসলে উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্ত্রী করিমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে কুতুবদিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শামীম ও তাঁর স্ত্রী কুতুবদিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে মগনামা জেটিঘাটে বোটের অপেক্ষায় ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে বোট ঘাটে পৌঁছালে তাঁরা বোটে ওঠার জন্য সিঁড়ি দিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় হঠাৎ পা পিছলে পানিতে পড়ে যান শামীম। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শফিউল আলম জানান, শনিবার বিকেল ৩টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও নৌবাহিনীর একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হলেও ডুবুরি দল না থাকায় তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে রোববার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেটিঘাটের নিচ থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের সঙ্গে থাকা এক জোড়া জুতা ও একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বজনরা জানান, করিমা অসুস্থ থাকায় তাঁকে বাবার বাড়িতে রেখে আসার জন্য শনিবার চট্টগ্রাম থেকে কুতুবদিয়ার উদ্দেশে রওনা হন শামীম ও তাঁর স্ত্রী। কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং মংলার পাড়া এলাকায় তাঁদের শ্বশুরবাড়ি। বিয়ের এক বছর পর স্ত্রীকে নিয়ে প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন শামীম।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, সকালে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।



















































