নিজস্ব প্রতিবেদক »
জাতীয় লবণনীতি-২০২২ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়া পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ২৮ মেট্রিক টন রক সল্ট বা বিট লবণের একটি চালান আটকে দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।
প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র না থাকায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘পিক মিনারেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে চালানটি আমদানি করেছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্দা অ্যান্ড জুবাযের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’।
২০ ফুট কন্টেইনারে আসা পণ্যটির খালাসের জন্য গত ৪ মে আমদানিকারকের পক্ষে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ’। তবে আমদানি নথির সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনওসি বা প্রাপ্যতা সনদ সংযুক্ত না থাকায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালানটি খালাসের অনুমতি দেয়নি।
চালানটিতে মোট ২৮ হাজার কেজি বা ২৮ মেট্রিক টন রক সল্ট রয়েছে, যা ১ হাজার ১২০টি ব্যাগে বন্দরে আসে। কাস্টমসের তথ্যমতে, পণ্যটির মোট ইনভয়েস মূল্য ৬ হাজার ৪৪০ মার্কিন ডলার।
এ চালানের বিপরীতে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম করসহ মোট ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৫ টাকা ৯৭ পয়সা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। চালানটির এলসি ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড।
এ বিষয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবসারও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিনিধি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনওসি ছাড়া চালানটি খালাস দেওয়া হবে না বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সরাসরি কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা করছে।
জাতীয় লবণনীতি-২০২২ অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন ছাড়া ক্রুড লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় না। সব ধরনের লবণ আমদানির ক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বা প্রাপ্যতা সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশীয় লবণ শিল্প সুরক্ষা ও স্থানীয় উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তৌহিদা ইসলাম বলেন, “জাতীয় লবণনীতি-২০২২ অনুযায়ী সোডিয়াম ক্লোরাইড বা এ ধরনের লবণ আমদানিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনওসি বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হলে আইন অনুযায়ী চালান খালাসের অনুমতি দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আগে ইমপোর্ট পারমিটের ভিত্তিতে এসব পণ্য শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে খালাস দেওয়া হলেও চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল থেকে বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো লবণের চালান খালাস করা হচ্ছে না।”
বাংলাদেশে রক সল্ট বা বিট লবণ খাদ্য, মসলা ও আচার শিল্প, হারবাল ও ইউনানি ওষুধ, কসমেটিকস এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ‘হিমালয়ান পিংক সল্ট’ নামে পরিচিত এ ধরনের লবণের ব্যবহার রেস্টুরেন্ট ও স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের মধ্যেও বাড়ছে। তবে দেশে পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন থাকায় স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় সরকার এ পণ্যের আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, রক সল্ট বা বিট লবণ ২৫১০০৩০ এইচএস কোডের আওতায় আমদানি হয়। বর্তমানে এ পণ্যে প্রায় ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে এই এইচএস কোডের আওতায় ৬২৮ দশমিক ৬৫ টন রক সল্ট আমদানি হয়েছে। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এ ধরনের আমদানির তথ্য পাওয়া যায়নি।





















































