
সুপ্রভাত ডেস্ক »
শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের আয়োজনে চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে আহলে বায়তে রাসূল (দ) স্মরণে দশদিনব্যাপী ৪১ তম আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে সোমবার (২২ জুন) ৬ষ্ঠ দিনে হাজারো মানুষের ঢল নামে।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন, বোয়ালখালী হাওলা দরবার শরিফের সাজ্জাদনশীন পীরে ত্বরিকত শাহসূফি সৈয়দ নঈমুল কুদ্দুস আকবরী।
মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের সবার প্রিয় এই বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আমাদের মধ্যে মত-পথের পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ৬১ হিজরিতে সংঘটিত কারবালার যুদ্ধ ছিল সত্য-মিথ্যার মধ্যে আদর্শিক লড়াই। এতে জিতেছেন হযরত ইমাম হোসাইন (রা) ও আহলে বায়তে রাসূল (দ)। আর কারবালা ময়দানে শোচনীয় পরাজয় ঘটে ইয়াজিদিদের। যুগে যুগে কারবালা সত্য-ন্যায়ের পথে প্রতিষ্ঠিত থাকার প্রেরণা যুগিয়ে আসছে।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ নঈমুল কুদ্দুস আকবরী বলেন, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের এই আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল আমাদের ঈমানি চেতনাকে সুদৃঢ় করেছে। এই মাহফিলের প্রবর্তক হলেন খতিবে বাঙাল আল্লামা জালাল উদ্দিন আলকাদেরী (রহ)। আর এ মাহফিলের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অনন্য অবদান রাখছেন আলহাজ¦ সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এই মাহফিল চট্টগ্রামকে সত্যিই মহিমান্বিত করেছে।
ইমাম হোসাইনের (রা) শাহাদাতের দর্শনের ওপর আলোচনা করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম জমেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক আল্লামা হাফেজ আহমদুল হক। তিনি বলেন, কারবালা ময়দানে ধৈর্য ও সবরের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন হযরত ইমাম হোসাইন (রা)। হযরত ইমাম হাসান (রা) এর ঘরে এক অতিথি এসে তাঁকে গালমন্দ ও দুর্ব্যবহার করেন। অথচ ইমাম হাসান তাঁকে জিজ্ঞসা করলেন আপনার কি ক্ষুধা পেয়েছে? ইমাম হাসান (রা) গালমন্দের পরিবর্তে এই লোকটিকে মেহমানদারি করলেন। বিনয় ন¤্রতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হযরত ইমাম হাসান (রা)।
আহলে বায়তে রাসূলের (দ) শান মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করেন রাবেতায়ে উলামায়ে আহলে সুন্নাত বাংলাদেশ এর মহাসচিব মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আল্লামা ইকবাল হোছাইন আলকাদেরী। তিনি বলেন, আহলে বায়তে রাসূলের (দ) শান মর্যাদা উচ্চকিত করেছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক। সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদায় আঘাত ও তাদেরকে কটূক্তি করা যাবে না। ইয়াজিদিয়তকে মুছে দিয়ে হোসাইনিয়তকে বুলন্দ করতে হবে। নবী সাহাবা ওলীদের পথই নাজাতের পথ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনীতিবিদ ইয়াছিন চৌধুরী লিটন বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে এবং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে আলোকিত সমাজ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে। এই জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বর্তমান সরকার এই মসজিদের উন্নয়নে অবদান রাখবে আমরা এই আশা করি।
হযরত ইমাম হোসাইনের (রা) বিপ্লবী চেতনা : বর্তমান যুব সমাজ বিষয়ে আলোচনা করেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান আজহারি। তিনি বলেন, বর্তমান যুব সমাজ নানাভাবে অবক্ষয়ের শিকার। যুব তরুণরা ইমাম হোসাইনের (দ) আদর্শ ধারণ করলে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও উজ্জীবিত হবে। ইমাম হোসাইন (রা) জীবন দিয়েছেন, কিন্তু ইয়াজিদের সঙ্গে আপস করেন নি। এটাই শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ¦ মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক ও পরিষদের কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাঈন উদ্দীন হোসাইন মিঠু।
মাহফিলে অতিথি ছিলেন, আলম-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব মুহাম্মদ আলমগীর পারভেজ, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দীন, রাজনীতিবিদ ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, ইস্টার্ন ডিপো সার্ভিসেস লিমিটেড এর পরিচালক মুহাম্মদ নুরুল আবছার, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ¦ পেয়ার মুহাম্মদ, সাজিনাজ গ্রুপ চট্টগ্রামের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর লায়ন শফিকুল ইসলাম, আল্লামা আবুল হাশেম শাহ, হাজী ইয়াকুব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জহিরুল আলম, শাহজাদা সৈয়দ ফয়েজুল আজিম, আলহাজ¦ সিরাজুল মোস্তফা, নুমায়ের মিজান আমির, শাবাব মিজান আমির, মাওলানা নুর মুহাম্মদ আলকাদেরী, শাহজাদা আবু সাঈদ মুহাম্মদ হামেদ, সমাজ সেবক আলী হোসেন আরিফ। কোরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী মুহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, হামদ ও নাতে রাসূল (দ) পরিবেশন করেন শায়ের মুহাম্মদ মনিরুদ্দীন কাদেরী।
মাহফিলের প্রচার সম্পাদক দিলশাদ আহমদের নির্মিত বিগত মাহফিলগুলোর ওপর এক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ড. জাফর উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ¦ খোরশেদুর রহমান, আলহাজ¦ মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, আলহাজ¦ পেয়ার মুহাম্মদ, প্রফেসর কামাল উদ্দীন আহমদ, আব্দুল হাই মাসুম, মাহবুবুল আলম, মুহাম্মদ মাইন উদ্দীন মিঠু, মুহাম্মদ নাজিব আশরাফ, মুহাম্মদ ওমর ফারুক, মুহাম্মদ সাহেদ, সৈয়দ শরফুদ্দিন জঙ্গী, মুহাম্মদ সোলাইমান, খুরশেদ আলী চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসাইন, হোসাইন রাহাত, ইকরামুল হক, মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, এডভোকেট রাশেদুল আলম, মুহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, জহির উদ্দীন, সৈয়দ মুহাম্মদ শরফুদ্দীন প্রমুখ ।
সালাত সালাম শেষে দেশ জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশে^র মজলুম মানুষের পরিত্রাণ কামনায় মুনাজাত করা হয়।

















































