
সুপ্রভাত ডেস্ক »
শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের আয়োজনে চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্লাজায় আহলে বায়তে রাসূল (দ) স্মরণে দশদিনব্যাপী ৪১ তম আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে রোববার (২১ জুন) ৫ম দিনেও হাজারো দ্বীনদার মানুষের সমাবেশ ঘটে।
মাহফিলে ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তারা বলেন, আউলিয়ায়ে কেরামের মাজার ও খানকাহগলো দ্বীন ইসলামের প্রতীক। যুগে যুগে দেশে দেশে ইসলামের মানবিক দর্শন প্রচারে আউলিয়ায়ে কেরামের অনন্য অবদান রয়েছে। তারাই ইসলামের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছে। তাদের কোনো শত্রু থাকতে পারে না। ক্ষমতাধরদের আনুকূল্যে বা রাজা বাদশাদের দ্বারা দুনিয়ার কোথাও ইসলাম প্রচারিত হয়নি। বরং হিংসা বিদ্বেষ থেকে বেরিয়ে এসে শান্তি, সম্প্রীতি, ঐক্য ও সহাবস্থানই আউলিয়ায়ে কেরামের আদর্শ ও শিক্ষা। সর্বস্তরের মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল মাজার-খানকাহর ওপর যারা হামলা-আক্রমণ চালায় এবং ওলীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ায় তারাই মূলত ইয়াজিদি ইসলামের অনুসারী। সূফিবাদি মানুষের ভরসাস্থল ও ঠিকানা আউলিয়ায়ে কেরামের মাজার-খানকাহগুলোতে প্রকৃত ইসলাম চর্চা হচ্ছে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
বক্তারা মাজারগুলো সুরক্ষিত রাখতে এবং সুফিবাদি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর হাজীগঞ্জ ইমামে রাব্বানী দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীন আওলাদে রাসূল (দ) পীরে ত্বরিকত আল্লামা শাহ সূফি সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল আবেদী।
তিনি বলেন, যুগে যুগে আওলাদে রাসূল (দ) ও আওলিয়ায়ে কেরাম ইসলামের প্রচার প্রসার ঘটিয়ে আসছেন। মাজার শরিফ ও খানকাহগুলো দ্বীন ইসলামকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ সূফিবাদী স্থাপনাগুলো আজ আক্রান্ত হচ্ছে। তা দেখে আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না। ওলী বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে। যারা সাহাবায়ে কেরামকে মানে কিন্তু আহলে বায়াতকে মানে না তারা পথভ্রষ্ট। আর যারা আহলে বায়তকে মানে কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা করে তারাও পথভ্রষ্ট ও গোমরাহিতে নিমজ্জিত। যারা উভয়কে মানে তারাই প্রকৃত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী।
প্রকৃত ইসলাম চর্চায় মাজার খানকাহর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন ইসলামি চিন্তাবিদ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আল্লামা মুফতি আলাউদ্দীন জিহাদি। তিনি বলেন, ইসলামের মূল দর্শনই হচ্ছে সূফিবাদ। আল্লাহর ওলীরা একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করে। আল্লাহ-রাসূলের (দ) নির্দেশনা মেনে চলে। তাঁরা কারো তাঁবেদারি করে না। অথচ আজ মাজার খানকাহকে কেন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে তা আমাদের বুঝে আসে না। মাজার বিদ্বেষীদেরকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
হানাফি মাজহাব কেন শ্রেষ্ঠ বিষয়ে আলোচনা করেন নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ রফিক উদ্দিন সিদ্দিকি। তিনি বলেন, চার মাজহাবকে অবশ্যই মানতে হবে। তবে নানা বৈশিষ্ট্যের কারণে হানাফি মাজহাবই শ্রেষ্ঠ। বেশিরভাগ মুসলমান হানাফি মাজহাবের অনুসারী। যারা মাজহাব মানে না তারা ইসলাম থেকেই বিচ্যুত।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পরিচয় নিয়ে আলোচনা করেন গহিরা আলিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মদ ফখরুদ্দিন। তিনি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতই একমাত্র মুক্তির পথ। অন্য সব মতবাদ বাতিল ও ভ্রষ্ট। ৭৩ দলের মধ্যে ৭২ দলই গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট। প্রিয় নবী (দ), খোলাফায়ে রাশেদা, সাহাবা, তাবেয়ী, আউলিয়ায়ে কেরামের পথে মতে প্রতিষ্ঠিতরাই জান্নাতি ও মুক্তিপ্রপ্ত। বাতিল দলে ওলী নেই। সব ওলী আমাদের। আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআতের পথে মতে প্রতিষ্ঠিত থাকলে পার্থিব সাফল্য-কল্যাণ মিলবে এবং পরজগতে নসিব হবে জান্নাত।
শাহাদাতে কারবালার দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন, আহছানুল উলুম কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা ইদ্রিস আনসারী। তিনি বলেন, আজ যারা আমাদেরকে মাজার পুজারী ও পাথর পুজারী আখ্যা দেয় তারা অবশ্যই পথভ্রষ্ট। কাবা শরিফ, মদিনা শরিফ, হাজারে আসওয়াদ সবইতো পাথর দ্বারা নির্মিত। এই পাথরে চুমু দেওয়ার জন্য মানুষের কী আকুলতা আমরা লক্ষ্য করি। তাই পাথরের পুণ্যময় স্থাপনাগুলোকে কি অস্বীকার-অবজ্ঞা করা যাবে?
মাহফিলে অতিথি ছিলেন আল তাইয়ার অটোমোবাইল ওয়ার্কসপ মুসাফাহ আরব আমিরাতের চেয়ারম্যান সিআইপি মুহাম্মদ ওসমান খান, ঈছাপুর দরবার শরিফের শাহজাদা ছৈয়দ মুহাম্মদ এহছানুল করিম, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দীন, আনজুমান ট্রস্টের ফাইনান্স সেক্রেটারি মুহাম্মদ কমর উদ্দিন সবুর, আনজুমান ট্রাস্টের প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স সেক্রেটারি মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, আলহাজ¦ সিরাজুল মোস্তফা, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা আবুল হাশেম শাহ, নুমায়ের মিজান আমির, শাবাব মিজান আমির, মাওলানা নুর মুহাম্মদ আলকাদেরী। কোরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী মুহাম্মদ মোসাদ্দেক, হামদ ও নাতে রাসূল পরিবেশন করেন শায়ের শাকিল আহমদ।
মাহফিলের প্রচার সম্পাদক দিলশাদ আহমদের নির্মিত বিগত মাহফিলগুলোর ওপর এক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ড. জাফর উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ¦ খোরশেদুর রহমান, আলহাজ¦ মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, আলহাজ¦ পেয়ার মুহাম্মদ, প্রফেসর কামাল উদ্দীন আহমদ, আব্দুল হাই মাসুম, আবুল মনসুর সিকদার, মাহবুবুল আলম, মুহাম্মদ মাইন উদ্দীন মিঠু, মুহাম্মদ নাজিব আশরাফ, মুহাম্মদ ওমর ফারুক, মুহাম্মদ সাহেদ, সৈয়দ শরফুদ্দিন জঙ্গী, মনিরুজ্জামান মিয়া, ঈছাপুরী দরবারের শাহজাদা আমানুল্লাহ আহসান, জাহিদুল হাসান, সাজ্জাদ হোসাইন, হোসাইন রাহাত, ইকরামুল হক, মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, এডভোকেট রাশেদুল আলম, মুহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, জহির উদ্দীন, সৈয়দ মুহাম্মদ শরফুদ্দীন, ওসমান গণি, মুহাম্মদ ফিরোজ প্রমুখ ।
সালাত সালাম শেষে দেশ জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশে^র মজলুম মানুষের পরিত্রাণ কামনায় মুনাজাত করা হয়।

















































