সুপ্রভাত ডেস্ক »
GIZ এবং BKMEA-BGMEA কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত “Sustainability Business Case related to Water, Chemicals and Energy” বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় রোববার (৭ জুন) চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লু হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ পরিচালক আহাম্মেদ নুর ফয়সাল, মোহাম্মদ শামসুল আজম, আব্দুল বারেক ও মো. ইয়াসিন।
সভায় বিকেএমইএ’র পক্ষে বক্তব্য রাখেন আহাম্মেদ নুর ফয়সাল।
তিনি বক্তব্যে বলেন, BKMEA দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বর্তমান বিশ্বে Sustainability কোন অতিরিক্ত বিষয় নয়; যা ব্যবসার অপরিহার্য অংশ। বিশ্ব বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে বিধায় আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ভোক্তা এবং স্টেক হোল্ডাররা এখন পরিবেশ বান্ধব, দায়িত্বশীল এবং স্বচ্ছ উৎপাদন ব্যবস্থাকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্প বিশ্বে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। আজ আমাদের শিল্প শুধু দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে না, বরং সবুজ শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক কারখানা এখন Energy Efficiency, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ বান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ও স্বীকৃত।
পানি, কেমিক্যালস এবং এনার্জি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার্য উপকরণ/বিষয়। এই গুলোর সঠিক ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা সরাসরি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, পরিবেশ সুরক্ষা, কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত।
যখন আমরা পানির অপচয় কমাই, তখন আমরা শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করিনা, একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় ও কমাই। যখন আমরা সঠিক কেমিক্যাল ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করি, তখন শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং পণ্যের গুণগত মান রক্ষা করি। আর যখন আমরা Energy Efficiency বৃদ্ধি করি, তখন আমরা কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি ব্যবসার স্থায়িত্ব ও নিশ্চিত করি। সুতরাং, Sustainability কে শুধু মাত্র কমপ্লাইয়েন্স হিসেবে দেখলে হবে না; এটিকে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক সুযোগ ও বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।
আজকের এই কর্মশালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আমাদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা এবং অংশীজনরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং বাস্তবসম্মত সমাধান বিনিময় করতে পারবেন। এই আলোচনা নিঃসন্দেহে আমাদের কারখানাগুলোকে আরও উন্নত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণে সহায়তা করবে।
বিশেষভাবে আরো উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু প্রযুক্তি বা নীতিমালা যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, টেকনিক্যাল টিম, শ্রমিক এবং Supply Chain সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও পদক্ষেপ।
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল হিসেবে টেকসই শিল্পায়নে গুরুুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমি আশা করি, আজকের কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।


















































