সুপ্রভাত ডেস্ক »
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও এর সফল বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আইবিএফবি আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি লুৎফুন্নিসা সাউদিয়া খান, সাবেক এনবিআর সচিব ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, এনার্জিপ্যাক সিইও হুমায়ুন রশীদ প্রমুখ।
বক্তব্যে সভাপতি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৮৭ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় দ্বিগুণ করে ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি জনসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ইঙ্গিত বহন করে।
তিনি বলেন, চার লাখ নারীর জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরের ব্যক্তিশ্রেণির কর কাঠামো একসঙ্গে ঘোষণা, বৈদ্যুতিক যানবাহনে দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক রেয়াত এবং ক্রিয়েটিভ ও স্পোর্টস ইকোনমিকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার উদ্যোগ দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বক্তারা বলেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। একইসঙ্গে সরকারি ঋণের ওপর অতিনির্ভরতা, ঋণের সুদ পরিশোধের বাড়তি চাপ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খেলাপি ঋণ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার ঘাটতি অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তারা বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সুশাসন। সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, ই-জিপি সম্প্রসারণ, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং ফলাফলভিত্তিক বাজেটিং নিশ্চিত করা গেলে প্রস্তাবিত বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য কর প্রশাসনের পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, করভিত্তি সম্প্রসারণ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামোগত সংস্কার, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল কাস্টমস কার্যক্রম, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, দীর্ঘমেয়াদি শিল্প অর্থায়ন, এসএমই খাতে সহজ শর্তে ঋণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতি সহজ করার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া রপ্তানি বহুমুখীকরণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত কার্যকর করা, বন্দর ও লজিস্টিক ব্যয় কমানো, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পুঁজিবাজার সংস্কার এবং গ্রিন, ব্লু ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশও তুলে ধরা হয়।


















































