নিজস্ব প্রতিবেদক »
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে পদায়নের আদেশ জারি হওয়ার পরও প্রায় পাঁচ মাস ধরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে যোগদান করতে পারছেন না প্রকৌশলী দিবাকর রায়।
যোগদানপত্র গ্রহণে টালবাহানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই প্রকৌশলী।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের শূন্য নির্বাহী প্রকৌশলী পদে দিবাকর রায়কে পদায়ন করে। এরপর তিনি গত ৫ মে যথাযথভাবে যোগদানপত্র দাখিল করলেও প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও দায়িত্ব বুঝে পাননি।
অন্যদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলীর পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সমমর্যাদার একজন সহকারী প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। শূন্য পদে নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নের পরও দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে গত ২০ জুলাই রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর একটি চিঠি পাঠান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের স্মারক অনুযায়ী দিবাকর রায়কে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাহী প্রকৌশলী (৫ম গ্রেড) (চলতি দায়িত্ব) পদে পদায়ন করা হয়। পদটি শূন্য থাকায় তিনি ৫ মে ২০২৬ তারিখে যথাযথভাবে যোগদানপত্র দাখিল করেন।
দিবাকর রায়ের দাবি, যোগদানের সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার চলমান কিছু কাজের কথা উল্লেখ করে তাকে জুন মাসের পর যোগদান করতে বলেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী জুলাই মাসে পুনরায় যোগদান করতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তার যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি। ফলে সরকারি আদেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পেরে প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদে নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ দীর্ঘদিন শূন্য রেখে সরকারি বিধি অনুসরণ না করে কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র ডিপিএম (Direct Procurement Method) পদ্ধতিতে পরিচালনার চেষ্টা চলছে। এ কারণে সহকারী প্রকৌশলী এরশাদুল হক মণ্ডলকে দিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখতে নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগদান বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী দিবাকর রায় বলেন, সরকারি আদেশ অনুযায়ী আমাকে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু অকারণে আমার যোগদানপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না। আমি চাই বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আমাকে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।















































