সুপ্রভাত ডেস্ক »
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে মেয়রের দায়িত্ব পেলেও তিনি দীর্ঘমেয়াদে এই পদে থাকতে আগ্রহী নন।
তিনি গণতন্ত্রের ধারা বজায় রাখতে চান এবং নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘ওয়ান স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশন এবং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দায়িত্ব নেওয়া ও আইনি বৈধতা নিয়ে মেয়র বলেন, ‘আদালতের আদেশে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। আইন অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমার মেয়াদ রয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কেন আমি মেয়রের চেয়ারে বসলাম। আমি তাদের বলতে চাই, আমি কোনো জোর করে বা অবৈধভাবে এখানে বসিনি। আমি জুডিশিয়াল অর্ডারের বৈধতা নিয়ে এসেছি। এটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কারও যদি কিছু বলার থাকে, তবে আইন অনুযায়ী তারা রিট করতে পারেন। আমি যদি এই বিচারিক আদেশ না বুঝতাম, তবে আমি রাষ্ট্র, আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করতাম।’
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি বারবার বলছি, স্থানীয় সরকারের মেয়র নির্বাচন যেন চট্টগ্রাম থেকেই শুরু হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি বলেছি, চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচন দিন। আমি চাই একটা গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচন হোক, যেখানে সবার অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যেমন গণতন্ত্রের ধারা ফিরে এসেছে, তেমনি সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রেও আমি সেটিই চাই। জনগণ তাদের ভোট যাকে খুশি তাকে দেওয়ার সুযোগ পাক।’
মেয়র আরও বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে যে সেবা দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যেন তার চেয়ে আরও উন্নত সেবা পেতে পারে, আমি সেই পরিবেশটাই চাই। আমি বারবার বলছি, আদালতের রায়ে আমার পাঁচ বছর মেয়াদের বৈধতা থাকলেও আমি নির্বাচন চাই। আমি আপনাদের সামনে দৃঢ়কণ্ঠে বলছি, যদি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়, তবে ইনশাআল্লাহ আমি পদত্যাগ করব। কারণ আমি জানি, আমি পদত্যাগ না করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া কঠিন। আমি আমার ৪০ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সব সময় গণতন্ত্রের চর্চাকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছি।’
অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
















































