সুপ্রভাত ডেস্ক »
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট থেকে একটি চোরাই প্রাইভেটকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় চোর সিন্ডিকেটের মূলহোতা ও সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
তবে উদ্ধার হওয়া গাড়ির মালিকের অভিযোগ, আটকের একদিন পর মূল অভিযুক্তকে ছেড়ে দিতে তৎপরতা শুরু করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। এমনকি ওই আসামিকে থানা হাজতে না রেখে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বাদীপক্ষকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফৌজদারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি চোরাই টয়োটা এক্সিও গাড়ি উদ্ধার করা হয়। এ সময় রাউজানের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুমিন চেয়ারম্যান, আফতাব উদ্দিন গালিব (২৪) এবং কাজী মোহাম্মদ নবী ওরফে তানভীরকে আটক করা হয়।
ব্যবসায়ী আহমদ কবির মানিকের মালিকানাধীন টয়োটা এক্সিও গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-গ ৩৪-৬৬৬১) কয়েক দিন আগে চুরি হয়। এরপর থেকেই তিনি নিজস্ব সোর্স ও গাড়িতে সংযুক্ত জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সেটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, গাড়িটি রাউজানের সাবেক চেয়ারম্যান মুমিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্তরা গাড়িতে থাকা জিপিএস ডিভাইস খুলে ফেলেন এবং গাড়িটি অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। পরে গাড়িটি ফেরত দেওয়ার শর্তে তাদের কাছে ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে অভিযোগও দিয়েছেন।
এদিকে, রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের সহযোগিতায় ফৌজদারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করা হয় এবং তিনজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা আরও কয়েকটি চোরাই মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার নিজেদের হেফাজতে থাকার তথ্য দিয়েছেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
গাড়ির মালিক আহমদ কবির মানিক বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের গাড়ি চুরি করে জিম্মি করেছে, ৮ লাখ টাকা দাবি করেছে, জিপিএস খুলে গাড়ি গোপন করেছে, তাকে লকআপে না রেখে ওসির কক্ষের পাশেই বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে যেন বিশেষ অতিথির মতো রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সোমবার দুপুর থেকে মামলার এজাহারে মুমিন চেয়ারম্যানের নাম না রাখার জন্য আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমরা তার নাম উল্লেখ করতে চাইলে ওসি বারবার আপত্তি জানান। এমনকি আমাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণও করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় গাড়ি চুরি, লুকিয়ে রাখা এবং পরে মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। তাদের মতে, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র এবং মুমিন চেয়ারম্যানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলামকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এদিকে, মামলা থেকে অভিযুক্তকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি নিয়ে আমি ওসির সঙ্গে কথা বলছি। যাতে কেউ অন্যায়ের শিকার না হন।















































