চবি প্রতিনিধি »
চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) উদ্যেগে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ও২ নং গেইটে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কর্মকর্তারা দোকান মনিটরিং করেন। এসময় দুইটি ফার্মেসী ও চারটি হোটেলে জরিমানা আদায় করেন।
বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা সিইউক্যাব এর সাহায্যে এই অভিযানটি পরিচালনা করেন।
অভিযানটি পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুর রহমান ও
মাহমুদা আক্তার।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চাকসুর ক্যাফেটারিয়া ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ, নির্বাহী সদস্য শোহানুর রহমান,সিইউক্যাবের সাধারণ সম্পাদক রাতুল ও ভোক্তা অধিকার এর কর্মচারীবৃন্দ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইটে মক্কা মদিনা হোটেলে তিন হাজার, কক্সবাজার হোটেলে পাঁচ হাজার এবং গ্রাম সঞ্চয় ফার্মেসী থেকে তিন হাজার টাকা সহ ২নং গেইটে মক্কা হোটেল ছয় হাজার টাকা জাহান ব্রেকারি এন্ড রেস্টুরেন্টে দশ হাজার, সেবা ফার্মেসী দশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।
এসময় জাহান বেকারি এন্ড রেস্টুরেন্টের মালিক সোলায়মান চৌধুরী ভোক্তা অধিকারের সহকারি আনিসুর রহমানের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু করে। বিভিন্ন ধরনের উচ্চবাচ্য কথা বলে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর টাকা পরিশোধ করলেও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে অফিসারদের গাড়ি আটকে দেয়। সেই সাথে চাকসু ও সিইউক্যাব এর সদস্যদের আটক করে।
দোকানের মালিক টাকা পুনরায় ফেরত চায়। এ ছাড়াও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমুলক গালি-গালাজ, ভুয়া, ভুয়া স্লোগান ও ব্যক্তিগতভাবে চার্জ করে এবং সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা দেয়। চাকসুর প্রতিনিধিদের প্রতি হুমকি প্রদান করেন।
জাহান ব্রেকারী এন্ড রেস্টুরেন্টের মালিক সোলায়মান চৌধুরী বলেন, এটা প্লান করে আমার দোকানে তারা জরিমানা করেছেন। আশপাশের অনেক দোকান আছে যেগুলোতে একই অবস্থা। কিন্তু এগুলো না দেখে শুধু আমার দোকানে কেনো দেখবে আর জরিমানা করবে কি জন্য। তাদের উচিত ছিল মালিক সমিতিকে জানিয়ে আসা। এখন আমি আমার টাকা ফেরত চাই এবং এখনই দিতে হবে। চাকসু শিবিরের হওয়ায় তারা আমার দোকানে আইনের লোক নিয়ে আসছে। আমরা এ বিষয়ে দেখব।
এ বিষয়ে জানতে ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমরা নিয়ম মেনে কাজ করেছি। তাদের বুঝিয়েছি, সব ব্যাখ্যা করেছি, কোথায় কোথায় সমস্যা তা দেখায় দিয়েছি। কিন্তু তিনি এই বিষয়টা রাজনীতিতে নিয়ে গেছেন। অন্য দোকানগুলো কেনো পরিদর্শন করিনি তার জন্য আমাদের বিরোধী ট্যাগ দিচ্ছেন। আমাদের একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার দোকান বা হোটেল ভিজিট করার পারমিশন থাকে। সেই সংখ্যা পূরণ হওয়ায় আমরা আর পরিদর্শন করিনি। আর আমরা সবকিছু আইন অনুযায়ী করেছি এর বাহিরে কোনোকিছুই না।
চাকসুর ক্যাফেটেরিয়া ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, আজ ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের এরিয়ায় অভিযান পরিচালনা করতে গেলে ২নং গেটে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে জরিমানা করার ফলে ভোক্তাধিকার কর্মকর্তা, চাকসু, ক্যাবের সদস্যদের এলাকাবাসী কিছু দুষ্কৃতিকারী সদস্য এবং দোকানদাররা অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর প্রশাসন এসে বের করে নিয়ে আসে। অথচ আগে থেকে জানানো হলেও ঘটনার সময় পুলিশ ছিলো নিরব। ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণদেরও রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
সিইউক্যাবের সাধারণ সম্পাদক রাতুল বলেন, আমরা ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাহায্য করার জন্য তাদের সাথে কাজ করেছি । বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের দোকানগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন করা হলেও বাহিরের দোকানগুলো যেগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করে এগুলোতে পরিদর্শন করা হয় না। আজকে ভোক্তা অধিদপ্তর এগুলো চাকসু ও সিইউক্যাবের সাহায্যে পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, অপরিচ্ছন্ন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার ও ওষুধের জন্য এগুলোতে জরিমানা করেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর এবং সহকারীসহ দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সাথে সমঝোতা করে তাদের ছড়িয়ে নিয়ে আসে।




















































