মতামত সম্পাদকীয়

কোরবানির পশুর হাট : জনভোগান্তি রোধে চাই কঠোর ব্যবস্থাপনা

পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ছোট-বড় অসংখ্য পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। কোরবানির পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ থাকলেও, যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিবছরই সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে যত্রতত্র গড়ে ওঠা অননুমোদিত হাট, তীব্র যানজট এবং পরিবেশগত বিপর্যয় নাগরিক জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এবার যেন সেই পুরনো চিত্রের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ও সতর্ক অবস্থান নিতে হবে।
প্রতিবছরই দেখা যায়, এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মহল ও ইজারা গ্রহীতারা অধিক মুনাফার লোভে নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে মূল সড়ক বা অলিগলি দখল করে পশুর হাট বসায়। এতে করে সড়কের প্রশস্ততা কমে যায় এবং যানবাহন চলাচলে তীব্র বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে শহরতলির সংযোগ সড়কগুলোতে এর প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। অনেক সময় দেখা যায়, হাসপাতাল বা গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবার প্রবেশপথেও পশুর হাট সম্প্রসারিত হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনকে এবার নিশ্চিত করতে হবে যেন অনুমোদিত সীমানার এক ইঞ্চি বাইরেও কোনো পশু না থাকে। একইসঙ্গে পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে অবৈধ হাটের দৌরাত্ম্য বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
যানজট নিরসন এই সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হাটে পশু নিয়ে আসা ট্রাকগুলো যত্রতত্র পার্কিং করার কারণে যানজট কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ট্রাফিক পুলিশকে হাট সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। ট্রাক থেকে গরু নামানোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান এবং সময় বেঁধে দেওয়া উচিত, যাতে কর্মব্যস্ত সময়ে প্রধান সড়কগুলো স্থবির হয়ে না পড়ে। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ফুটপাত ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব ইজারাদারদের ওপর কঠোরভাবে ন্যস্ত করতে হবে।
পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাটের পশুর বর্জ্য, গোবর এবং খড়কুটো সময়মতো পরিষ্কার না করায় বৃষ্টির দিনে তা ড্রেনে মিশে জলাবদ্ধতা ও উৎকট দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। প্রতিটি হাটের ইজারাদারকে নিজস্ব পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগের শর্ত দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন কমই দেখা যায়। সিটি কর্পোরেশনকে হাটের বর্জ্য অপসারণে দ্রুততম ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পরিবেশ দূষণকারীদের বড় অঙ্কের জরিমানার আওতায় আনতে হবে।
কোরবানির মহিমা ত্যাগের ও পবিত্রতার। সেই পবিত্রতা যেন অপরিকল্পিত হাটের অব্যবস্থাপনায় ম্লান না হয়। আমরা আশা করি, প্রশাসনের কঠোর তদারকি, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের প্রসার এবং নির্দিষ্ট স্থানে পশু কেনাবেচার মাধ্যমে এবার একটি সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব হাটের অভিজ্ঞতা পাবেন নাগরিকরা। জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই হোক এবারের লক্ষ্য।