আব্দুস সাত্তার সুমন »
গ্রামের ছোট্ট ছেলে খোকা। গাছপালা, নদ-নদী, আকাশের পাকপাখালি সবকিছু তার বন্ধু। কিন্তু খোকার মনে একটা প্রশ্ন অনেকদিন ধরে ঘুরছে, পাখিরা কি শুধু গান গাইতে জানে, নাকি তাদেরও কোনো রহস্য আছে?
একদিন দুপুরে খোকা স্কুল থেকে ফেরার পথে পুরনো এক কাঁঠাল গাছের নিচে বসলো। হঠাৎ সে দেখতে পেল, এক পাখি কিচিরমিচির করছে, কিন্তু সেই শব্দ যেন আলাদা! খোকা মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করলো, আর আশ্চর্য হয়ে গেল। পাখিটা যেন শব্দের ভেতর একটা বার্তা লুকিয়ে রেখেছে।
খোকা কাছে যেতেই একটি কোকিল উড়ে এসে গাছের ডালে বসে কৌতুহলী স্বরে বলল,
‘খোকা, তুমি কি জানতে চাও গোপন বনের রহস্য কি?’
খোকা অবাক হল, কিন্তু সাহস করে মাথা নাড়ল।
কোকিল বলল,
‘তাহলে আমার সাথে এসো, তবে মনে রেখো, যে সত্য জানবে সে আর আগের মতো সাধারণ অনুভূতিতে থাকবে না।’
খোকা কোকিলের পিছু নিলো। পাখি তাকে নিয়ে গেল গ্রামের সীমানার বাইরে এক ঘন ঝোপের ভেতর। হঠাৎ খোকা দেখতে পেল, ভেতরে একটা অদ্ভুত আলোকিত পুকুর। পানি স্বচ্ছ, কিন্তু পানির ভেতরে ভেসে আছে অসংখ্য বর্ণ-অক্ষর! যেন আকাশের তারাগুলো জলে নেমে এসেছে।
কোকিল বলল, ‘এটাই জ্ঞানের পুকুর। যারা মন দিয়ে শোনে আর সত্যের সন্ধান করে, কেবল তারাই এখানে আসে। খোকা, তুমি প্রতিদিন মানুষের ভুল, মিথ্যা আর অজ্ঞতা দেখে কষ্ট পাও! এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে তুমি অন্যদের আলোর পথ দেখাতে পারবে।’
খোকা পানির ভেতর তাকাতেই দেখলো, সে যে প্রতিদিন দুষ্টুমি করে গাছের ডাল ভাঙে, কাদায় ছোট মাছ মাওে সব দৃশ্য ভেসে উঠছে। লজ্জায় খোকার মাথা নিচু হয়ে গেল। কোকিল আবার বলল, ‘প্রকৃতি আমাদের কল্যাণময়। তুমি যদি এটাকে কষ্ট দাও নষ্ট করো, তবে আলোকিত পৃথিবী অন্ধকারে ঢেকে যাবে। তুমি বদলালে অন্যরাও বদলাবে।
খোকা প্রতিজ্ঞা করল, আর কখনো গাছ ভাঙবে না, প্রাণীদের কষ্ট দেবে না। বরং সে গ্রামে সবার মাঝে সত্য আর দয়া ছড়িয়ে দেবে।
এরপর কোকিল হাসি দিয়ে উড়ে গেল আকাশে। কিন্তু যাবার আগে বলল, ‘যখনই তুমি ভুলে যাবে, আমি আবার ডাক দিয়ে মনে করিয়ে দেবো।’




















































