ফিচার এলাটিং বেলাটিং

করো না কো হিংসা

পৃথ্বীজিৎ চৌধুরী »

একই বাড়ির দুই যমজ ভাই, আর চিকু। মিতু ক্লাস টপার। আর ওদিকে চিকু সবসময়ই কেনোমতে পাস করে। মুখে চিকু দেখায় ও মিতুর জন্য খুশি ও গর্ববোধ করে, কিন্তু মনে মনে প্রচণ্ড রাগ আর হিংসা।
সামনেই পরীক্ষা আসছে। মিতু খুব সিরিয়াসভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর ওদিকে চিকু সারাক্ষণ খেলে আর দৌড়ে বেড়াচ্ছে। একদিন হঠাৎ রাত দুটো নাগাদ চিকুর ঘুম ভেঙে গেল। দেখলো তখনও মিতু টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে বই খুলে কী যেন লিখেই চলেছে। ঘুমে তার চোখ বুজে আসছে, কিন্তু তা-ও সে লিখেই চলেছে। তখনই চিকুর মাথায় বদবুদ্ধি খেলে গেল। ও এতক্ষন ধরে লিখছে তার মানে ওর নিশ্চয়ই পরীক্ষার জন্য এই লেখাগুলো খুব দরকার। কেমন হয় যদি ও মিতুর খাতাটা ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দেয়? তাহলে তো ও আর পরীক্ষায় কিছুই লিখতে পারবে আর বাজে রেজাল্ট করবে। এই ভেবে যখন ও নিজে মনে মনে হাসছে, তখনই মিতু টেবিল ল্যাম্পটা বন্ধ করে বলল, ‘কিরে চিকু, ঘুমাসনি?’ চিকু বলল,‘ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে গেল, দেখলাম তুই লিখছিস। আয় একসাথে ঘুমাই।’ মিতু বলল, ‘হ্যাঁ তাই-ই চল, আমারও খুব ঘুম পেয়েছে।’
পরেরদিন সকালে চিকু ঘুম থেকে উঠতেই মিত বলেু, ‘দেখ, তোর জন্য কাল রাত দুটো অব্দি বসে পরীক্ষার জন্য নোটস তৈরি করেছি। এই নে এটা পড়বি। এবার কিন্তু তোকে ভালো রেজাল্ট করতেই হবে। তাহলে তোকে তোর যা ইচ্ছা তাই আমি আমার পকেটমানি দিয়ে কিনে দেবো।
‘যাই স্নান করে আসি’ বলে চলে গেল। চিকু বুঝতে পারল যে যদি হিংসার বশে ওই খাতাটা আগেই ছিঁড়ে ফেলত, তাহলে ও নিজেরই কত ক্ষতি করত আর তার সাথে মিতুর রাত জাগা পরিশ্রমকেও ব্যর্থ করে দিত। যতই হোক নিজের ভাই তো।