নিজস্ব প্রতিবেদক »
ইসলামী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ভাগ্নে মোস্তান বিল্লাহ আদিল ও তার স্ত্রী সাদিয়া জামিলের বিরুদ্ধে তিনটি চেক প্রত্যাখ্যান (ডিশঅনার) মামলায় চার্জ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে তিন মামলার বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। তবে চার্জ গঠনের সময় কোনো আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
রোববার চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক বিপ্লব দেব নাথ আদিল করপোরেশনের নামে দায়ের করা দুটি মামলায় চার্জ গঠন করেন। একই দিন মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শহিদুল্লাহ কায়সার সাদিয়া ট্রেডার্সের নামে দায়ের করা একটি মামলায় একই আদেশ দেন।
আদালত ও ব্যাংক সূত্র জানায়, আদিল করপোরেশনের কাছে ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার পাওনা ১ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। এ ঋণ আদায়ে ২০২৫ সালের ২৮ মে অর্থঋণ মামলা করা হয়। মামলাটি এখনও বিচারাধীন।
ঋণখেলাপির পাশাপাশি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে মোস্তান বিল্লাহ আদিলের বিরুদ্ধে ২৫টি চেক প্রত্যাখ্যান মামলা দায়ের করে ইসলামী ব্যাংক। রোববার চার্জ গঠন হওয়া দুটি মামলার চেকের মোট মূল্য ১১৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে সাদিয়া ট্রেডার্সের কাছে একই শাখার পাওনা ১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। এ ঋণ আদায়ে ২০২৫ সালের ২২ মে অর্থঋণ মামলা করা হয়। পরে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল মামলাটিতে একতরফা রায় দেন আদালত।
এ ছাড়া সাদিয়া জামিলের বিরুদ্ধে ২৪টি চেক প্রত্যাখ্যান মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার চার্জ গঠন হওয়া মামলার চেকের মূল্য ৪৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
আদিল করপোরেশনের পক্ষে ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী কবির হোসাইন বলেন, এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বর্তমানে চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতে ২৮টি মামলা বিচারাধীন। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রায় ৩৮২টি চেক প্রত্যাখ্যান মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার চার্জ গঠন হওয়া দুটি মামলায় আসামি আদালতে হাজির হননি।
সাদিয়া ট্রেডার্সের পক্ষে আইনজীবী মো. ফজলুল বারী বলেন, সাদিয়া জামিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২৪টি মামলার মধ্যে প্রথমটিতে চার্জ গঠন হয়েছে। মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি একবারও আদালতে হাজির হননি।
এর আগে গত ৬ জুলাই এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও তার ভাই আব্দুল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে ১৪টি চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় চার্জ গঠন করেন আদালত। মামলাগুলো এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের খেলাপি ঋণের বিপরীতে দায়ের করা হয়। ওই ১৪টি চেকের মোট মূল্য ছিল ৩৯৩ কোটি টাকা।
এরও আগে, গত ২১ মে ওজি ট্রাভেলস লিমিটেডের ৮০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ মামলায় এস আলম গ্রুপের ১১ কর্ণধারের বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অন্য অর্থঋণ মামলাগুলোতে আসামিদের পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখা এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। তবে আব্দুল্লাহ হাসান ছাড়া এস আলম পরিবারের অন্য কোনো সদস্য এখন পর্যন্ত আদালতে হাজির হননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে। আদিল করপোরেশন ও সাদিয়া ট্রেডার্স ওই ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

















































