সুপ্রভাত ডেস্ক »
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের কর্মী বদরুল ইসলাম সায়মনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার ও কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে) দীপঙ্করকে কারাগার থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। অপরদিকে সমীরকে ভার্চুয়াল হাজির দেখানো হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদেরকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের দীপঙ্করের আইনজীবী মিজান মোহাম্মদ মহসিন আদালতকে বলেন, তিনি হাইকোর্ট থেকে পাঁচটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। গত ১৩ মে তার জামিননামা দাখিল করা হয়। তিনি যখন কারামুক্ত হবেন, তখন তাকে তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত পুনরায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে সমীর চন্দের পক্ষে অ্যাডভোকেট এনামুল হক শুনানি করেন। তিনি আদালতকে জানান, আসামির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। তার ডায়াবেটিস আছে, কিডনিতে গুরুতর সমস্যা। এছাড়া তিনি একজন হার্টের রোগী, এর আগে ভারতের চেন্নাইতে তার দুইবার বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। তিনি এর আগে ৬টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। প্রত্যেকবার জামিনের পর নতুন করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার শারিরীক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালতের কাছে সমীর চন্দের জামিন চান এই আইনজীবী। পরে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। একইসঙ্গে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোবহানবাগ থেকে দীপঙ্কর তালুকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন কৃষকলীগের সভাপতি সমীর চন্দকে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে আটক আছেন তিনি। তার আইনজীবী জানান, গ্রেপ্তারের পর থেকে ৬টি মামলার সবকটিতে জামিনে ছিলেন তিনি। আজ নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়ায় কারামুক্ত হচ্ছেন না তিনি।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর শেখ হাসিনা সরকারের গুম-খুন, নিপীড়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও তার শরীক দলগুলো পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ আয়োজন করে। দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দল এই মহাসমাবেশের ডাক দেয়। সেখানে ভুক্তভোগী বদরুল ইসলাম সায়মন অংশ নেন। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আসামিরা অতর্কিতভাবে হামলা করে। এ সময় আসামিদের এলোপাথাড়ি গুলিতে বদরুল ইসলাম সায়মন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বদরুল ইসলাম সায়মন নিজে বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল পল্টন থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪৫ জনকে আসামি করা হয়।



















































