রাউজান প্রতিনিধি »
রাউজানে মাটি ও বালুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তের গুলিতে কাউসারুজ্জামান বাবলু (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাউজান পৌরসভার পূর্ব আইলিখীল খামার টিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বাবলু রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালার মুখ এলাকার আবুল নঈম সওদাগর বাড়ির আবুল কালাম সওদাগরের ছেলে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পেশায় দিনমজুর ছিলেন। তার দুই স্ত্রীর মধ্যে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। প্রথম সংসারে এক কন্যা সন্তান এবং দ্বিতীয় সংসারেও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাবলুকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পথেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খামার টিলা এলাকায় নিহতের মামাতো ভাই পলিন ও বাবলুসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে আসছিলেন। মাটি ও বালুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নিহতের বাবা আবুল কালাম সওদাগর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বাবলুকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। একাধিকবার তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমার ছেলে তার নানার বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিল। ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতের স্ত্রী লিজা মনি বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের কিছুদিন আগে ঝামেলা হয়েছিল, পরে সেটির সমাধান হয়।
তিন দিন আগে চৌধুরী মার্কেট এলাকায় কিছু ছেলের কথোপকথনের ভিডিও করেছিল বাবলু, যেখানে অস্ত্র নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তবে তিনি মজা করে ভিডিওটি করে সেখান থেকে চলে আসেন। তবে ঠিক কোন দ্বন্দ্বে তাকে হত্যা করা হলো বুঝতে পারছি না। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
স্থানীয় কপিল নামে এক যুবক বলেন, বাবলুকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে পেছন থেকে গুলি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়-টিলা কাটা ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে নানা বিরোধ চলে আসছে।
এদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে লাশবাহী গাড়ি নিয়ে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে ঘটনাস্থলে রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা, থানার ওসি (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন দেওয়ানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে তার শরীরের পিঠের বাঁ পাশে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি গ্রুপকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















































