মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি »
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার প্রাচীন জনপদ চৈক্কাবিল। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের আসা-যাওয়ার একমাত্র কাঁচা সড়কটির বেহাল দশায় যুগ যুগ ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছে ঐ এলাকার তিন শতাধিক মানুষ। মানিকছড়ি সদর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ড ধর্মঘর থেকে চৈক্কাবিল পর্যন্ত দেড় মিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি গত ৫০ বছরেরও।
ফলে এই এলাকার তিন গ্রামের তিনশতাধিক মানুষ চরম ভোগান্তি নিয়ে সড়কটিতে চলাচল করছে। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে মালামাল পরিবহন ও মুমূর্ষু রোগী উপজেলা সদর হাসপাতালে আসা-যাওয়ায় হাঁটুসমান কাদামাটি মাড়াতে হচ্ছে। বর্ষার মৌসুমে ভোগান্তি বহুগুণ বাড়লেও সড়কটি উন্নয়ন উদ্যোগ নেয়নি কেউ!
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চৈক্কাবিল এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী হাতে জুতা নিয়ে হাঁটু সমান কাদামাটি মারিয়ে চলাচল করছে। অনেকেরই নষ্ট হচ্ছে জামাকাপড়। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতেও পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে দুর্ভোগে থাকলেও সড়কটি সংস্কার বা ইটের সলিং করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
চৈক্কাবিল এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী সুইনুপ্রু মারমা বলেন, “এই কাঁচা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াত করি। বর্ষাকালে কাদার কারণে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। ছোট শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ক্যাম্রা মারমা বাপ্পি বলেন, “সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় বর্ষাকালে এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনেও সমস্যা হয়। মুমূর্ষু রোগী কিংবা প্রসূতিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
কৃষক নিসাই মারমা জানান, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে প্রায় এক কিলোমিটার পথ কাঁধে করে বহন করতে হয়। বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও একইভাবে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে হয়। তিনি বলেন, “সড়কটি ইটের সলিং করা হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।”
নারী কৃষিশ্রমিক উক্রাসোং মারমা বলেন, “কাদামাটির কারণে অনেক শিশু স্কুলে যেতে চায় না। বর্ষায় প্রতিদিন জামাকাপড় নষ্ট করে স্কুলে যেতে হয়। সড়কটির দ্রুত উন্নয়ন হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজী মাসুদুর রহমান বলেন, “উপজেলার বেশকিছু গ্রামীণ সড়ক, কালভার্টের উন্নয়ন কাজ চলমান। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সড়কটি ইটের সলিং করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
















































