বর্ষা তুমি
কেশব জিপসী
পারছি না তো আজ কটা দিন
বাইরে যেতে,
বর্ষা তুমি বৃষ্টি নিয়ে
উঠলে মেতে।
মাঠ-ঘাট সব জলে থৈথৈ
পথটা উধাও,
ডিঙি নৌকা নামল বুঝি
আজ কোথাও।
জলের ধারায় স্রোত লেগেছে
ঢলের মতো,
ঢুলু ঢুলু গাছাপালা সব
নুইয়ে যতো।
এই বরষায় সবাই এখন
আটকে ঘরে,
তব্ওু চাই তুমি এসো
বারেবারে।
কারণ তুমি আসো বলেই
প্রাণটা জাগে,
খরায় তোমার জন্যে সবাই
বৃষ্টি মাগে।
মেঠোপথের কন্যা
আনোয়ারুল হক নূরী
এসো এসো মন উদাসী মেঠো পথের কন্যা।
ঢেউয়ের বিলি তোমার চুলে তোলে খুশির বন্যা।
শিউলি হাসে তুমি যখন মল পরা পা রাখো।
হাসির কুসুম দাও বানিয়ে মন মিতালির সাঁকো।
হাত ভরে নাও ঝরা বকুল দিও গুঁজে খোঁপায়।
বসো যদি একটুখানি নরম কাশের সোফায়।
ধুসর মেঠোপথ মাড়িয়ে দাঁড়াব মা-র পিছে।
মা-ও বুঝি খইয়ের নাড়ু বানিয়ে রেখে দিছে।
আড়াল হয়ে তুমি দাঁড়াও একটু নিও মেনে।
আমি তোমায় করব আড়াল মায়ের আঁচল টেনে।
হয়ত নিতে দেরি হবে নেব চুপিসারে।
ওই তো বুঝি মা যে আমার ডাকছে যেন কারে?
আচ্ছা না হয় আজ চলে যাও একটুখানি ঘরে।
কালকে না হয় আসব দুজন এই মেঠোপথ ধরে।
মা আর আমি
আজহার মাহমুদ
বাইরে অনেক বাতাস
গাছে গাছে পাখি
ছাদে বসে মা আর আমি
পাখির ছবি আঁকি।
ছবির সাথে পাখির নামও
মায়ের মুখে শুনি
ঘুঘু, টিয়া, চড়ুই, ময়না
আর আছে টুনটুনি
ফুটবল বিশ্বকাপ
লিটন দাশ গুপ্ত
হাতে কিছু সময় আছে নেইকো বিশেষ কাজ,
বিশ্বকাপের খেলা নিয়ে ভাবছি যে তাই আজ।
উনিশ’শত তিরিশ হতে বিশ্ব ট্রফি শুরু
তখন হতে প্রশ্ন ওঠে কে শিষ্য কে গুরু?
খেলতো আগে রাজ খ্যাতি যার ব্রাজিলের সেই ছেলে
ফুটবল মাঠে ভীষণ পটু নামটি যে তার পেলে!
পরে যারা খেলছে ভালো সেতো হাতে গোনা,
তাদের মাঝে আর্জেটিনার বিস্ময় ম্যারাডোনা!
‘পেলে’ কিংবা ‘ম্যারাডোনা’ এখন মাঠে নাই,
তবু ‘ব্রাজিল’ ‘আর্জেটিনা’র বিশ্বকাপ-টা চাই!
মজার খেলা
শচীন্দ্র নাথ গাইন
সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু মাঠ থই থই পানি,
ফসল ওঠা খালি ক্ষেতে দিচ্ছে যে হাতছানি।
আজ ইশকুল ছুটি বলে কেউ থাকে না থেমে,
দুপুরটা পার হতেই ওরা পড়ল মাঠে নেমে।
কেউ ওরা হয় ম্যারাডোনা কেউ নেইমার-পেলে,
দুইদলে ভাগ হয়ে ওরা যায় ফুটবল খেলে।
ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার উঠছে খেলা জমে,
চলছে জোরে ঝাঁপাঝাপি যাচ্ছে না কেউ দমে।
নেই দর্শক নেই গোলপোস্ট নেই রেফারির বাঁশি,
চেঁচামেচির সাথে চলে খিলখিলানো হাসি।
জার্সিও নেই কারো গায়ে কাদামাটি মাখা,
দেহের আসল রঙটা পুরো পড়ছে সবার ঢাকা।
হাঁটু পানির মধ্যে ওদের চলছে মজার খেলা,
গোল হয়নি কোনো টিমের শেষ যদিও বেলা।
ওদের খেলার খবর বাড়ির কারোরই নেই জানা,
ফিরলে ঘরে তাই বকেনি কেউ করেনি মানা।




















































