গাঁয়ের গল্প বলো
আলমগীর কবির
ও মেঠোপথ তুমি আমার গাঁয়ের গল্প বলো,
মুক্তা হীরার চেয়েও দামি মায়ের গল্প বলো-
ও মেঠোপথ চিকনাই নদীর বাঁকের গল্প বলো,
মন ভোলানো বন্য পাখির ঝাঁকের গল্প বলো!
ও মেঠোপথ এখন আমি এক শহুরে বালক,
ফিরে এলাম খুঁজতে আমার হারিয়ে ফেলা পালক!
হারিয়ে ফেলা লাটাই ঘুড়ি কলাপাতার বাঁশি,
ফিরে এলাম খুঁজতে আমার বুবুর মুখের হাসি।
ও মেঠোপথ নিয়ে চলো আমায় খোলা মাঠে,
কত্ত কিছু আজ অচেনা লাগছে এ তল্লাটে!
মাটির মায়ায় ঘর ফিরেছি ঠিক শিকড়ের টানে,
বন্য ফুলের সুবাস পাচ্ছি ‘ছেলেবেলার ঘ্রাণ’-এ।
খুকির শরৎ
নুশরাত রুমু
শরৎ এলেই খুকি তো আর
খেলতে যায় না মাঠে
শিউলি ফোটা গাছের নিচেই
সারাটা দিন কাটে।
ভোরে উঠে ছুটে গিয়ে
কুড়ায় শিউলি ফুল
মালা গেঁথে নিজের হাতে
পরে কানের দুল।
নীল আকাশে ওড়ে যখন
সাদা মেঘের ভেলা
খুকি ভাবে পাখি হয়ে
উড়বে দুপুরবেলা।
বিকেল হলে মায়ের সাথে
যাবে কাশের বনে
চুপি চুপি করবে খেলা
প্রজাপতির সনে।
শুভ্র শরৎ
শচীন্দ্র নাথ গাইন
স্বপ্নীল সাদা মেঘ মেলে তার পাখা সে,
সীমাহীন অজানায় উড়ে চলে আকাশে।
নদীতীরে কাশফুল দোল খায় বাতাসে,
শুভ্রতা ভরে দেয় নেড়ে তার মাথা সে।
সবুজাভ ধানক্ষেত ঢেউ তোলে নাচে যে,
স্বচ্ছ ঝিলের জলে মাছ করে খেলা যে।
শাপলারা উঁকি দেয় সোনারোদ মেখে যে,
অপরূপ শোভা তার মনে যায় এঁকে যে।
সুরভিত শিউলিরা ঝরে ভোর মাতাতে,
শিশিরের কণা থাকে জমে তার পাতাতে।
প্রজাপতি ডানা মেলে ঘোরে ফুল বাগানে,
তাল রেখে অলিকূল সুর তোলে যা গানে!
নির্মল হাওয়া বয় আলোছায়া খেলাতে,
স্নিগ্ধতা ঢেলে দেয় জ্যোছনার মেলাতে।
চারিদিকে মধুমাখা পাখিদের গীতালি,
প্রকৃতির সাথে কী যে শরতের মিতালি!
নেবে তুমি?
আনোয়ারুল হক নূরী
আকাশ ভরা নীল নেবে ভাই
উদাস ছোটা নদী।
কী চাও তুমি? ধুলি ধূসর
মাঠ নিতে চাও যদি।
হাত বাড়াবে মেঘের পরি
যেন বুবুর বিনী।
যেখানেতে ভোর সোনামুখ
বানায় সোনার গিনি।
আর কী নেবে পদ্ম পুকুর
যেন পাতার মাঠ।
যেখানেতে সাঁঝে বসে
জোনাক পাখির হাট।
আচ্ছা না হয় দেব তোমায়
ঘুঘু ডাকা দুপুর।
উছলে পড়া নদীর বুকে
বাজে ঢেউয়ের নূপুর।
আর কী দেব সাঁঝে বধু
ঝিঁঝিঁর ঘুঙুর পায়।
জোছনা রুপোর ঘোমটা টেনে
বাপের বাড়ি যায়।
দূরে কোথাও বাজছে বাঁশি
সুরের যাদু নাও।
নৌকা নিয়ে বইঠা বেয়ে
যেখান খুশি যাও।
একটু দূরে দাড়িয়ে থাকা
পাহাড় যেন মিনার।
সিঁদূর মেঘে ঝলসানো এক
অস্তাকাশের কিনার।
নেবে তুমি? নিতে পার
একটুখানি আদর।
ছড়িয়ে আছে মায়ের স্নেহের
অবারিত চাদর।
চিঠির হালচাল
অবিনাশ আচার্য
সুকান্ত‘র এক রানার ছিল ঘণ্টা বাজত হাতে
বোঝাই চিঠি ছুটত রানার ক্লান্তি ছিল না তাতে।
সুকান্ত নেই রানারও আর ছোটে না ভোর রাতে
ই-মেইল এখন চিঠি পাঠায় লেখার সাথে সাথে।
লেটার বাক্স থাকত বাঁধা সদর গেটের পাশে
দিনের শেষে খুলত তালা লেটার যদি আসে।
ডাকটিকেটের ডাকপিওনের বালাই গেছে কমে
ইনবক্সের নোটিশ এখন মোবাইল স্ক্রিনে জমে।
একটি চিঠির গল্পে ছিল মনের হাজার কথা
প্রিয়জনের সুখের দুখের আবেগ আকুলতা।
চিঠি শুধু মন-কথা নয় সাহিত্যের এক ধারা
অমর তাঁদের ‘পত্রাবলী’ জ্ঞানী গুণী যারা।
আলমারির এক নীচের তাকে পড়ে থাকা খামে
হলদেটে খাম খুললে আজও সময় এসে থামে।
কালির দাগও মুছে গেছে কাগজ গেছে ক্ষয়ে
স্মৃতির পাতায় কয়েকটি লাইন থাকে আপন হয়ে।
ভুল বানানের চিঠিতেও কুশলবার্তা এলে
ছোট্ট খামের ভাঁজে ভাঁজে ভালোলাগা মেলে।
মাটির ফলক প্যাপিরাসে বিবর্তনের ধারা
দূরের যোগাযোগ কি ছিল চিঠিপত্র ছাড়া।
অডিও কলে ভিডিও কলে দূরত্ব যায় কমে
গতির যুগে আগের মতো সেতুবন্ধন জমে?






















































