দেশে চলমান হামের প্রকোপের মধ্যে চট্টগ্রামের চিকিৎসা খাতের যে কঙ্কালসার রূপটি উন্মোচিত হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা, পিআইসিইউ এবং হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার তীব্র সংকট চলছে। ৫০ শয্যার হাম ব্লকে ৭০ থেকে ৮০ জন শিশুকে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে; পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে একটি শয্যায় তিন-চারজন শিশুকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকেরা। উপরন্তু, চট্টগ্রামে কোনো হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষাগার না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে এবং রিপোর্ট আসতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে। এই বিলম্ব ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি আক্রান্ত শিশুদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই আইসিইউ ও ক্যানুলা সংকটে সুরাইয়া আলম নামের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে নিষ্ঠুরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের “সীমিত সক্ষমতা নিয়ে কাউকে ফেরত না দেওয়ার” সদিচ্ছা প্রশংসনীয় হলেও, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। চমেক হাসপাতালের ২০টি শিশু আইসিইউ শয্যার মধ্যে মাত্র ১০টি সরকারি এবং বাকিগুলো অনুদানের ওপর নির্ভরশীল—এই তথ্যটি প্রমাণ করে যে দ্বিতীয় বৃহত্তম এই নগরীর স্বাস্থ্য অবকাঠামো কতটা অবহেলিত। হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য যেখানে ৬০ লিটার পর্যন্ত হাই-ফ্লো অক্সিজেন প্রয়োজন, সেখানে পুরো হাসপাতালে মাত্র ৪১টি হাই-ফ্লো মেশিন থাকা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। এর ওপর যোগ হয়েছে ওষুধ কেনার অতিরিক্ত খরচের বোঝা, যা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে নিঃস্ব করে তুলছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও বিআইটিআইডি-তে নামমাত্র কয়েকটি শয্যার হাম কর্নার খোলা হলেও, পিআইসিইউ সুবিধা না থাকায় চমেকের ওপর রোগীর চাপ কমানো যাচ্ছে না।
একটি আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মহামারীর মতো পরিস্থিতিতে এমন হাহাকার কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত পিআইসিইউ শয্যা ও হাই-ফ্লো ক্যানুলা সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে, সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা না করে চটজলদি রোগ শনাক্তের জন্য চট্টগ্রামেই একটি আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বিনামূল্যে নিশ্চিত করার পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিকে আরও জোরদার করতে হবে, যেন আক্রান্তের হার শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মানুষের জীবন নিয়ে এমন অসহায়ত্বের অবসান ঘটাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য।
মতামত সম্পাদকীয়




















































