সুপ্রভাত ডেস্ক »
মিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চসংখ্যক আসন পাওয়া সত্ত্বেও সাংবিধানিক বিধির জটিলতার কারণে সরকার গঠন করতে পারছেন না দক্ষিণী চলচ্চিত্র তারকা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কোজাগাম (টিভিকে)।
এর মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে টিভিকে কে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে জোট করার পরিকল্পনা করছে দুই বিরোধী দল ডিএমকে এবং এআইডিএমকে।
এই পরিস্থিতিতে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছে বিজয়ের রাজনৈতিক দল। বিজয় নিজে অবশ্য এখন পর্যন্ত এ ইস্যুতে মুখ খোলেননি, তবে তার টিভিকে’র একাধিক নেতা জানিয়েছেন— যদি ডিএমকে এবং এআইডিএমকে নিজেদের মধ্যে জোট করে সরকার গঠনের উদ্যোগ নেয়— তাহলে বিজয়সহ টিভিকের নির্বাচিত ১০৭ জন এমপির সবাই একযোগে পদত্যাগ করবেন।
টিভিকের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’কে বলেন, “জনরায় খণ্ডিত, কিন্তু বিধানসভার বৃহত্তম দলকে অবহেলা করলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট আসনসংখ্যা ২৩৪টি। কোনো দল বা জোট যদি সরকার গঠন করতে চায়, সেক্ষেত্রে সেই দল বা জোটকে কমপক্ষে ১১৮টি আসনে জয়ী হতে হবে। সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে জয়ী হয়েছে ১০৭টি আসনে। অর্থাৎ একক দল হিসেবে এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চসংখ্যক আসন পেয়েছে টিভিকে।
তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন না থাকায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে টিভিকে। কংগ্রেস ৫টি আসনে জয়ী হওয়ায় টিভিকে-কংগ্রেস জোটের মোট আসনসংখ্যা বেড়ে হয় ১১২টি। তবে তারপরও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৬ টি আসন কম আছে এই জোটের।
আসনসংখ্যার হিসেবে টিভিকের পরেই আছে ডিএমকে; ৫৯টি আসনে জয়ী হয়েছে দলটি। ৪৭টি আসনে জয় নিশ্চিত করে তৃতীয় স্থানে আছে এআইডিএমকে।
হিসেব অনুযায়ী দুই দল সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১০৭টি। তবে এই দু’টি দলের সঙ্গেই জোট আছে ছোট ছোট কয়েকটি রাজনৈতিক দলের। নির্বাচনে দু’টি, ৫’টি কিংবা ছয়-সাতটি আসন পেয়েছে এই ছোট দলগুলোও। ফলে দুই দলের প্রকৃত আসনসংখ্যা আরও বেশি।
যেমন— ডিএমকের জোটভুক্ত আইউএমএল, সিপিআই, সিপিআিই (এম) এবং ভিসিকে প্রত্যেকে ২টি করে আসন জিতেছে। অপর দল ডিএমডিকে জয়ী হয়েছে একটি আসনে। ফলে ডিএমকে জোটের প্রকৃত আসন ৬৮টি।
আর এআইডিএমকের সঙ্গে জোট রয়েছে ৩ দলের— পিএমকে, বিজেপি এবং এএমএমকে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পিএমকে পেয়েছে ৪টি আসন, আর বিজেপি ও এএমএমকে একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে এআইডিএমকের দখলে থাকা প্রকৃত আসনসংখ্যা ৫৩টি।
যদি ডিএমকে এবং এআইডিএমকে তাদের সব শরিকসহ জোট করে তাহলে বিধানসভায় এই জোটের দখলে চলে যাবে (৬৮+৫৩) মোট ১২৩টি আসন। ফলে যদি এ দুই দল জোট বাঁধে— তাহলে টিভিকে-কে বাদ দিয়ে খুব সহজেই তারা সরকার গঠন করতে পারবে।
গত ৬ মে বুধবার নিজ দল এবং কংগ্রেসের এমপিদের নিয়ে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে সরকার গড়ার আর্জি জানান বিজয়। কিন্তু রাজ্যপাল তাকে ফিরিয়ে দেন এবং ১১৮ জন এমপির সমর্থন নিয়ে আসতে বলেন।
রাজ্যপালের এই কথা মেনে টিভিকে যখন হন্যে হয়ে জোটসঙ্গী খুঁজছে, সেময়েই খবর আসে যে জোট করতে গোপন চ্যানেলে যোগাযোগ করছে ডিএমকে এবং এআইডিএমকে।
ডিএমকের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র এনডিটিভিকে এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, আলোচনা চলছে এবং যদি সত্যিই জোট গঠন হয়, তাহলে তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এআইডিএমকের সাধারণ সম্পাদক এড়াপাদ্দি কে. পালানিস্বামী।
সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে এই খবর পাওয়ার পরই পদত্যাগের হুমকি দিয়েছে টিভিকে। যদি সত্যিই টিভিকে পদত্যাগ করে, তাহলে ফের বিধানসভা নির্বাচন ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।
সূত্র : এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে


















































