উত্তর কাট্টলীতে যেভাবে চলছে লকডাউন

0
303
কর্নেলহাট মোড়ে সড়কপথ ব্লক করে রাখা হয়েছে-সুপ্রভাত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

১৪ প্রবেশপথ বন্ধ রেখে চলছে উত্তর কাট্টলীতে লকডাউন। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা একধরনের অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তবে এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকলেও চালু রয়েছে গার্মেন্টস এবং বিসিক শিল্প এলাকার কারখানাগুলো। রাস্তা ও গলিগুলোতে  মানুষের বিচরণ ছিল কম। এলাকার সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা কর্নেলহাট মোড় ছিল ব্লক। এছাড়া কর্নেলহাট বাজারও বন্ধ রয়েছে।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে লকডাউন পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে দেখা যায়, কৈবল্যধাম মোড়ে বাঁশ দিয়ে বস্নক করে দেয়া হয়েছে। এতে ডিটি রোড থেকে কোনো গাড়ি এবং মানুষ ভেতরে যেমন প্রবেশ করতে পারবে না, তেমনিভাবে ভেতর থেকেও কেউ বের হতে পারবে না। আর এই স্থানে নিরাপত্তায় রয়েছে তিনজন আনসার ও একজন পুলিশ। নিউ মনসুরাবাদ এলাকার ভেতরের সব দোকানপাট বন্ধ থাকলেও কয়েকটি ফার্মেসির দোকান খোলা ছিল। পরিবর্তিত ঘোষণা অনুযায়ী ফার্মেসি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ডিটি রোডে প্রশান্তি আবাসিক এলাকার গেট খোলা থাকলেও সেখানে পুলিশের প্রহরা রয়েছে। কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী বিদ্যালয়ের পাশে প্রধান সড়কের সব দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়।

কর্নেল হাট সিটি কর্পোরেশন মার্কেট হলো এই এলাকার মানুষের বাজারের প্রধান কেন্দ্র। কিন্ত এখানে আকবর শাহ থানার তিনজন পুলিশ বসে রয়েছে পাহাড়ায়। বাজারের সব দোকান বন্ধ রয়েছে। জানতে চাইলে পাহাড়ায় নিয়োজিত পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ নাজিম বলেন,‘ আমরা সব ধরনের চেষ্টা করছি লকডাউন বাস্তবায়ন রাখতে। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু সড়ক খোলা রয়েছে মানুষের যাতায়াতের জন্য।’

বিভিন্নস্থানে বসানে হয়েছে পুলিশ পাহারা-সুপ্রভাত

কর্নেল হাট বাজারের অপর পাশে কর্নেল জোন্স সড়কের দিকে প্রবেশের প্রধান সড়কটি বাঁশ দিয়ে লকডাউন করে রাখা হয়েছে। সেখানে পুলিশের টিমও রয়েছে। আর এতে কর্নেল হাট এলাকা থেকে কেউ বের বা প্রবেশ করতে পারবে না।

এদিকে এলাকার মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কেনার সুবিধার্ধে নির্দিষ্ট ভ্যানে সবজি ও মাছ বিক্রি করার কথা। এছাড়া মানুষের প্রয়োজনে ৫টি হটলাইন নম্বর (০৩১-৪৩১৫১৩৬৮, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৯, ০৩১-৪৩১৫১৩৭০, ০৩১-৪৩১৫১৩৭১, ০৩১-৪৩১৫১৩৭২, মোবাইল ০১৮১৯-০৫৬৮৪৪, ০১৮১১-৮৮৭০৮৪) দেয়া হয়েছে। এসব নম্বরে কল করা হলে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌছে দেয়া হবে। এছাড়া স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা দিতে রাখা হয়েছে  অ্যাম্বুলেন্স। করোনা  রোগীরা যাতে নমুনা দিতে পারে সেজন্য এলাকায় বুথও চালু করা হয়েছে।  অপরদিকে প্রশাসনের পক্স থেকে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম থাকবে। অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে তাদের জরিমানা করবে এই টিম।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১২টি ওয়ার্ড লাল তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে  প্রাথমিকভাবে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডকে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন শুরম্ন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্বাবধানে চলছে এই লকডাউন কার্যক্রম।