এ মুহূর্তের সংবাদ

নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইন প্রকল্প

একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো। বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং রেলপথকে। বর্তমানে ঢাকা থেকে রেলপথে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে যেখানে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লেগে যায়, সেখানে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় এই দূরত্ব অতিক্রম করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইন প্রকল্প’। এবারের বাজেটে এই মেগা প্রকল্পটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া কেবল সময়ের দাবিই ছিল না, বরং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধির এক দূরদর্শী পদক্ষেপ।সুপ্রভাত বাংলাদেশ অতীতে এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে কয়েকবার।
বর্তমান ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথটি টঙ্গী-ভৈরব বাজার-আখাউড়া হয়ে ঘুরে আসায় এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২১ কিলোমিটার। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা হয়ে সরাসরি ‘কর্ড লাইন’ নির্মাণ করলে এই দূরত্ব প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার কমে যাবে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং দেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রয়োজনে এই বিকল্প ও সংক্ষিপ্ত রেলপথের উপযোগিতা অপরিসীম। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সাথে রাজধানীর সরাসরি, দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারলে আমাদের শিল্পোৎপাদন এবং আমদানি-রপ্তানি খাত পিছিয়ে পড়বে। ট্রেনের গতি এবং ফ্রিকোয়েন্সি বাড়িয়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাপ সামলাতে এই কর্ড লাইন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য প্রয়োজন।
কর্ড লাইন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ও দৃশ্যমান সুফল আসবে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের মাধ্যমে। সাড়ে ৩ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাতায়াত সম্ভব হলে তা ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। সময় বাঁচা মানেই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।
অর্থনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলে, দূরত্ব কমে যাওয়ার ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ সাশ্রয় হবে। পণ্যবাহী ট্রেনের যাতায়াত দ্রুত হলে বন্দরের কন্টেইনার জট কমবে, যা পরোক্ষভাবে ব্যবসার খরচ বহুগুণ কমিয়ে আনবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে যে অর্থনৈতিক চাকা ঘোরে, এই প্রকল্প তা আরও বেগবান করবে।
যেকোনো মেগা প্রকল্পের মূল চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক সময়ে এবং নির্ধারিত বাজেটে তার সফল বাস্তবায়ন। কর্ড লাইন প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন এবং সঠিক সময়ে কাজ শেষ করার দিকে সরকারকে কঠোর নজর দিতে হবে। বাজেটে বরাদ্দের পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অপচয় রোধ করা সমানভাবে জরুরি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইন প্রকল্প কেবল দুটি নগরের দূরত্ব কমাবে না, এটি দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখবে। স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই রেলপথ হবে একটি মাইলফলক। এবারের বাজেটে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি সরকারের উন্নয়নমুখী ভাবনারই প্রতিফলন। আমরা আশা করি, যথাযথ তদারকি ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই প্রকল্প দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন সুবর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করবে।