নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দনাইশ >>
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা সদর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত ভবন ও নির্জন জায়গায় মাদকসেবীদের আড্ডা জমে ওঠায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে জোয়ারা মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা, চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা সদর ভূমি অফিসের পাশের পরিত্যক্ত ভবন এবং আশপাশের নির্জন স্থানে সন্ধ্যার পর অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা কয়েকটি ভবন মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় এসব স্থানে তেমন লোকজনের উপস্থিতি দেখা না গেলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে আনাগোনা। রাত গভীর হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে দাবি তাদের।
এলাকাবাসী জানান, পরিত্যক্ত ভবনগুলোর নির্জনতার সুযোগ নিয়ে সেখানে মাদক সেবনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব এলাকার সড়ক ও আশপাশ দিয়ে চলাচলের সময় নারী, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ভবনগুলো পরিত্যক্ত পড়ে আছে। সন্ধ্যার পর সেখানে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। অনেক সময় রাত পর্যন্ত তাদের সেখানে অবস্থান করতে দেখা যায়। এতে এলাকার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।”
পৌরসভার বাসিন্দা ও ছাত্রদলনেতা আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “চন্দনাইশ ভূমি অফিস সংলগ্ন পরিত্যক্ত ভবন এবং এর আশপাশের গলিতে সন্ধ্যা হলেই মাদকের আড্ডা জমে ওঠে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। মাদকসেবীদের কারণে এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ কিশোর ও তরুণদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব স্থানকে ঘিরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মাদকাসক্তির বিস্তার ও অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পরিত্যক্ত ভবনগুলোর মালিকানা ও ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব স্থানে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ও রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার এবং মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, মাদকের আড্ডা বন্ধের পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরবে এবং পরিত্যক্ত ভবনগুলো অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারের সুযোগও বন্ধ হবে।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, “পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এসব স্থানে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মহলের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি চন্দনাইশকে মাদকমুক্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”



















































