বিজনেস

কাঁচামাল সংকটে এস আলমের চিনিকল বন্ধ, শ্রমিক ছাটাই

সুপ্রভাত ডেস্কঃ কাঁচামালের সংকট ও এলসি জটিলতায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এদিন ছাটাই করা হয় এই ৩৮৩ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, কাঁচামালের সংকট, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় কারখানাটি আগে থেকে বন্ধ ঘোষণা ছিল। তবে মজুত কাঁচামাল দিয়ে কিছু দিন কারখানাগুলো চালু ছিল। কারখানাটিতে প্রথম ধাপে ৮৬জনকে ছাটাই করা হলেও একেবারে কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। তবে এবারই একেবারে দ্বিতীয় ধাপে ৩৮৩কে ছাটাই করে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

-advertise-

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে কারখানাটির প্রজেক্ট ডাইরেক্টর এবং প্রধান মানব সম্পদ ও প্রশাসন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ছাঁটাই শ্রমিকদের নামের তালিকা টানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে নিম্নলিখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

কারখানার কর্মচারী মনির আহমেদ বলেন, শ্রমিকদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৩৮৩ জন শ্রমিক ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছি। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না। শুনেছি, কাঁচামালের অভাব ও আর্থিক সংকটের কারণেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।

কারখানার আরেক শ্রমিক নজরুল বলেন, চাকরি হারিয়ে আমরা দিশেহারা। নতুন কোথাও চাকরির সুযোগ নেই। পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছি। এত শ্রমিককে একসঙ্গে বেকার করে দেওয়ায় আমাদের সামনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে।

এদিকে, শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে চাকরি হারানো শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ সব পাওনা একযোগে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এরআগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এস আলম গ্রুপের চিনি, ইস্পাত ও বিদ্যুৎসহ অন্তত ছয়টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তখনও কর্তৃপক্ষ কাঁচামাল আমদানিতে বাধা এবং ব্যাংকিং সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হন।

কারখানা বন্ধের বিষয়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানা একেবারে বন্ধ বলা যাবে না তবে, কাঁচামাল না থাকায় কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। অনেকদিন ধরে কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছিল না তাই যা মজুদ ছিলো সেগুলো দিয়েই কারখানা চলছিলো এতিদন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কাঁচামাল সংকটে বন্ধ কর্ণফুলীতে অবস্থিত এস আলমের সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো হলো, চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্পাতের পাত প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ও ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢেউটিনসহ ইস্পাতপণ্য তৈরির কারখানা এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ইস্পাত ও গ্যালকো স্টিল এবং ব্যাগ তৈরির কারখানা এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েল ইত্যাদি।

এবিষয়ে জানতে এস আলম গ্রুপের ম্যানেজার বোরহান উদ্দিনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গত দুইমাস আগেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন জানিয়ে এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।