এ মুহূর্তের সংবাদ

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যা

উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হচ্ছে পানিবন্দিদের

সাতকানিয়া প্রতিনিধি »

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া কার্যত পানির নিচে। উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

-advertise-

কোথাও কোমর, কোথাও বুকসমান পানি। ডুবে গেছে বসতভিটা, তলিয়ে গেছে সড়ক। অনেক পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে উদ্ধার অভিযানে নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

চারটি ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কেঁওচিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালাচ্ছেন সেনাসদস্যরা। বয়স্ক, নারী, শিশু, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গত মানুষের কাছে শুকনো খাবার ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন খালিদ হাসান।

এর আগে শুক্রবার রাতে সেনাবাহিনীর একটি দল সাতকানিয়া সদরে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। শনিবার সকাল থেকেই পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, এওচিয়া, ছদাহা, সোনাকানিয়া, ঢেমশা, খাগরিয়া, চরতী ও আমিলাইষ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো উপায় নেই। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিতে শুরু করেছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সে অনুযায়ী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।