মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
মতামত সম্পাদকীয়

ডেঙ্গুর রেকর্ড সংক্রমণ এবং আমাদের চিকিৎসাসামর্থ্য

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও এক আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যার মধ্যে কেবল আগস্ট মাসেই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। দৈনিক ৫০ জনের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং ইতোমধ্যে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। কেবল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডেই নয়, বরং সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীর মতো উপজেলাগুলোতেও এডিস মশার বিস্তার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বর্ষার শেষভাগে এসে ডেঙ্গুর এই বাড়বাড়ন্ত নতুন কিছু নয়, তবে প্রতি বছর একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও মশক নিধন কার্যক্রমের দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে তোলে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বহুতল ভবন নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে অসচেতনতা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থবিরতা।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী ও তাৎক্ষণিক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসনকে কার্যকর মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করতে হবে। কেবল নামমাত্র ওষুধ ছিটানো নয়, বরং লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা প্রয়োজন। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পর্যপ্ত ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সিটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
তবে সরকারি বা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাই এই মহামারী রোখার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ঘরবাড়ি, বারান্দার টব, একুয়ারিয়াম কিংবা চারপাশে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং রাতে ও দিনে সমানভাবে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে অবহেলা মানেই জীবনের ঝুঁকি বাড়ানো। বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে এখনই কঠোরভাবে সামাল না দিলে সামনের দিনগুলোতে চট্টগ্রাম মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে। সময় এসেছে সমন্বিত পরিকল্পনা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে এই সংক্রামক ব্যাধিকে প্রতিহত করার।

---------