এ মুহূর্তের সংবাদ

চবিতে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা ও কাব্য রোমন্থন

চবি প্রতিনিধি »

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জাতীয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা কাব্য রোমন্থন সভা আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের সহযোগিতায় এ আয়োজন করে চাকসু।

শুক্রবার (৮ মে) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

প্রধান আলোচক বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী ব্যক্তিগত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন,বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্ন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো শাহাদাত হুসাইন এবং চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।

বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন বলেন,’পশ্চিমা বিশ্ব বিস্তৃতির ক্ষেত্রে রুমিকে প্রাধান্য দেয়,কিন্তু রুমি রবীন্দ্রনাথের মতো বিস্তৃত ছিলেন না।অনেক বিষয় থাকলেও,রবীন্দ্রনাথের লেখালেখির মূল বিষয় ছিলো ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা।একমাত্র মানুষ হিসেবে রবীন্দ্রনাথ কখনোই আধ্যাত্মিকতা থেকে সরে যাননি।সুনীল গঙ্গোপধ্যায়ের মতো কবি রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী কবিতাকে বলেছেন পাগলের প্রলাপ।’

তিনি আরও বলেন,’যারা ধর্মবিদ্বেষকে চরমভাবে ধারণ করে এবং সাহিত্য থেকে ধর্মকে বিতাড়িত করতে চায় তাদের সর্বশেষ শিকার হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের জাতীয় কবিতাগুলি।’

চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন,’রবীন্দ্রনাথ বাংলা এবং পশ্চিম্বঙ্গ উভয় জায়গায় চিন্তার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।উনার গান,কবিতা,নাটক,প্রবন্ধসহ যে বিশাল সৃষ্টি,তা আমাদের সত্যিই অবাক করে।আমাদের জাতীয় সংগীত নিয়ে অনেক বেশি তর্ক- বিতর্ক হতে পারে,তবে ‘আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালোবাসি’ এরচেয়ে সহজ-সাবলীলভাবে ভালোবাসা আর কেউ ছড়াতে পারে বলে আমার জানা নেই।’

এছাড়াও তিনি বলেন,’আমি দেখেছি যে,রবীন্দ্রনাথকে বারবার সাম্প্রদায়িক কবি বলা হয়,কিন্তু আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যতটুকু জানি,তিনি কখনোই মুসলিমদের ঘৃণা করেননি।’

চাকসু সাহিত্য,সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম বলেন,’আমরা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়,বরং সকলের সংস্কৃতিকে সমানভাবে ধারণ করতে চাই। বর্তমান সময়ে দেখতে পাচ্ছি রবীন্দ্রনাথ একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব হয়ে গিয়েছেন,কিন্তু একজন সাহিত্যের মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করা হোক তা আমরা চাই না।’

আলোচনা ছাড়াও শিক্ষার্থীদের আবৃত্তি করা কবিতা এবং রবীন্দ্র সংগীত আয়োজনটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।