সুপ্রভাত ডেস্ক »
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে। হরতালের প্রভাবে উপজেলার নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নে যান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
হরতালের কারণে ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজি দিঘী-হেয়াঁকো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা রয়েছে।

এদিকে, বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীরা পিকেটিং, বিক্ষোভ ও মিছিল করেন।
তবে, বেলা ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটকের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে ভূজপুর থানা পুলিশের একাধিক টিম সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা আন্দোলন করছেন। ফটিকছড়ির ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের সুবিধা বিবেচনায় সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করা উচিত। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তারা বলেন, ফটিকছড়ি উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের স্বার্থে সদর দপ্তর এমন স্থানে স্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে সব এলাকার মানুষ সমানভাবে প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
আন্দোলনকারী সাহেদুল আলম বলেন, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা যায়নি। আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
নারায়ণহাট বাজারে আন্দোলনকারী হাসান শামসুদ্দীন বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়; এটি উত্তর ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন। আমরা যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর চাই। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আযাদ বলেন, উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলেই স্থাপন করতে হবে। দাবির অংশ হিসেবে আজকের হরতাল কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
হরতাল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হরতাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















































