এ মুহূর্তের সংবাদ

চট্টগ্রামে তরুণদের নিয়ে ‘লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার’ প্রকল্পের মতবিনিময়

​চবি প্রতিনিধি »

​চট্টগ্রাম শহরের তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার: এমপাওয়ারিং ইয়ুথ ভয়েসেস ২.০” প্রকল্পের আওতায় এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

-advertise-

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নগরীর ওআর নিজাম রোডের ‘বিয়ন্ড দ্য স্কাই’ রেস্তোরাঁয় এই সভার আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক নাঈমা সুলতানা জিলজিল অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।” স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার জন্য তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনের পথচলা আরও মসৃণ ও ফলপ্রসূ হবে।

​ওয়েভ ফাউন্ডেশন এবং ডয়চে ভেলে (DW) একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মান সরকারের অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য তরুণদের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সরাসরি সম্পৃক্ত করা।

সভায় চট্টগ্রামের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবকগণ অংশগ্রহণ করেন।
​অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেট্রি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট মোঃ সাইফুর রহমান এবং রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিস্ট সাজ্জাদুল করিম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার গ্রিভেন্স অ্যান্ড অ্যাডভাইস অফিসার ফারহানা আক্তার।

​সভায় প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেট্রি বলেন, “এই প্রকল্প তরুণদের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে এবং তাদেরকে নীতিনির্ধারণী অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করছে।” বর্তমান সময়ে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রতিরোধে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের ফ্যাক্ট-চেকিং দক্ষতা বৃদ্ধি, মিডিয়া লিটারেসি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

​কমিউনিকেশন অ্যান্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট মোঃ সাইফুর রহমান তাঁর বক্তব্যে জানান, তরুণদের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের (Fact-checking) সঠিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গুজব প্রতিরোধে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। অন্যদিকে, রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিস্ট সাজ্জাদুল করিম বলেন, দেশের যেকোনো বড় ধরনের পরিবর্তনে তরুণ সম্প্রদায়ের ভূমিকা অপরিসীম। অনলাইনের প্রচলিত সামাজিক মাধ্যমই তরুণদের কণ্ঠস্বরকে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার, তাই সাইবার পলিসি এবং আইন সবার জানা ও মেনে চলা প্রয়োজন।

​মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী তরুণরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, এ ধরনের উদ্যোগ তাঁদের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করছে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অনুপ্রাণিত করছে।

​প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্থানীয় পর্যায়ের সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও)-এর তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং আঞ্চলিক গণমাধ্যমের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীতে একটি বিশেষ বুট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা আরও নিবিড় ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।