সুপ্রভাত ডেস্ক »
কালবৈশাখীর আকস্মিক তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। কোরবানির ঈদের ঠিক আগের দিন বুধবার (আজ) আঘাত হানা এই ঝড়ে গাছপালা ভেঙে ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের অন্তত ১৫টি উপজেলা।
দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ বন্ধ হয়ে আছে। ফলে আগামীকাল কোরবানির পর পশুর মাংস সংরক্ষণ করা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
বুধবার (২৭ মে) বেলা ১১টার দিকে উত্তর চট্টগ্রামে এবং দুপুর ১টার দিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামে দমকা হাওয়া ও ঝোড়ো বৃষ্টি শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলায় এই তাণ্ডব চলে। এতে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেক স্থানে তার ছিঁড়ে গিয়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। ঝড়ের প্রায় ৮ ঘণ্টা পরও অনেক উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
বিশেষ করে চট্টগ্রামের আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ ও ফটিকছড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, বাড়বকুণ্ড ও ফটিকছড়ির বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল উৎস ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা লাইন মেরামতে কাজ করলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।
বোয়ালখালীতে হঠাৎ ঘূর্ণিবাতাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন সড়কে গাছ ও ডালপালা পড়ে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছিঁড়ে গেছে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন তার।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিপ্লব চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিবাতাসে গাছের ডালপালা পড়ে আহত ৯ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এঁদের মধ্যে আবু তৈয়ব (২৭), আবু সৈয়দ, রিয়া ও মো. আশরাফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আনোয়ারা উপজেলায় বিদ্যুতের তারের ওপর গাছপালা উপড়ে পড়ায় বেলা ১১টা থেকে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারছে না উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. মোর্শেদুল আলম বলেন, ‘কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উপজেলাজুড়ে বিদ্যুৎ লাইনের বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। লাইনম্যানরা পুরোদমে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে।’
আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) কোরবানির ঈদ। রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ না এলে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে পারেন বাসিন্দারা। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে আগামীকাল মাংস নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এমন প্রস্তুতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ বলেন, ‘কোরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা চরম অবহেলার শামিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতেই পারে, কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। তাদের কাজও অনেকটা দায়সারা।’
ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘কোরবানির আগের দিন ফটিকছড়ির বিদ্যুতের এমন অবস্থা খুবই দুর্ভোগের। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ও এজিএম চাইলে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু তাদের কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। ফোন করলেও তাদের পাওয়া যায় না।’
এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—জানতে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




















































