মতামত সম্পাদকীয়

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রী হলের সংকট দূর করুন

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজ কেবল উচ্চশিক্ষার বুনিয়াদই নয়, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের এক চারণভূমি। তবে এই গৌরবোজ্জ্বল প্রতিষ্ঠানের একটি অন্ধকার ও দুঃখজনক দিক হলো এর ছাত্রীদের আবাসন সংকট। বর্তমানে কলেজে প্রায় ১০ হাজার ছাত্রী অধ্যয়ন করলেও তাদের জন্য আবাসন সুবিধা রয়েছে মাত্র দুইশত জনের। অর্থাৎ, মাত্র ২ শতাংশ ছাত্রী হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন, আর বাকি ৯৮ শতাংশ ছাত্রীকে তীব্র আবাসন সংকটের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, নতুন হল নির্মাণের জন্য কলেজের নিজস্ব জায়গার কোনো অভাব নেই। অভাব শুধু প্রয়োজনীয় অর্থায়নের। ভূমি থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিংবা বাজেট বরাদ্দের উদাসীনতায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে নতুন ছাত্রী হল নির্মাণের পরিকল্পনা। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় এক বড় অন্তরায়।
চট্টগ্রাম কলেজে দূর-দূরান্ত থেকে পড়তে আসা ছাত্রীদের একটি বড় অংশ মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের। হলের সিট না পেয়ে তাদের বাধ্য হয়ে কলেজের বাইরে মেস বা প্রাইভেট হোস্টেলে থাকতে হয়। এতে একদিকে যেমন তাদের পড়াশোনার খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের তীব্র ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক অভিভাবকই নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেয়েদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন মাঝপথে থামিয়ে দিতে বাধ্য হন। দেশের নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়নের যে জয়গান আমরা গাই, চট্টগ্রাম কলেজের এই চিত্র তার সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান।
একটি সরকারি শীর্ষস্থানীয় কলেজে জায়গার সংকুলান থাকা সত্ত্বেও শুধু ফান্ডের অভাবে ছাত্রীরা মানবেতর জীবনযাপন করবে কিংবা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত এই সংকটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কলেজে নতুন ছাত্রী হল নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করতে হবে। একই সঙ্গে, বর্তমান হলটির সংস্কার ও আসন সংখ্যা বাড়ানোর সাময়িক ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ আবাসন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি তাদের মৌলিক অধিকার। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।