সুপ্রভাত ডেস্ক »
দেশের শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) উৎপাদন ও বিপণনকারী বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের (ইউবিএল) ফ্ল্যাগশিপ বিজনেস কম্পিটিশন ‘বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউনিলিভার ফিউচার লিডার্স প্রোগ্রাম (ইউএফএলপি) ২০২৬’-এর ১৬তম আসরের গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শীর্ষ ছয় দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চূড়ান্ত পর্ব শেষে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম ‘সোপ-আর-স্টারস’। মির রামিসা রাইয়ান রোজ, ফাইয়াজ আমিন রাহিন ও রুশমিলা হাবিবের দলটি বিজয়ীর ট্রফি জিতে নেয়। রাহিন ও রুশমিলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষার্থী এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের রোজ ছিলেন পুরো প্রতিযোগিতার একমাত্র স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী।
সামিহা তাহসিন মেধা, ইভান আশফাক ও নুসাইবা নাঈমের টিম ‘লকড আউট’ প্রথম রানারআপ হয়েছে। মেধা ও নুসাইবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর এবং ইভান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে ফাতিমা আহমেদ, মুজাহিদুল ইসলাম তাজদিদ ও আদিবা মুস্তফা তানিশার টিম ‘ব্রেকিং গুড’। তানিশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর, ফাতিমা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এবং তাজদিদ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী।
ফাইনালে প্রতিযোগীরা বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানে নিজেদের উদ্ভাবনী প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবগুলো মূল্যায়নের জন্য গঠিত জুরি প্যানেলে ছিলেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের পারসোনাল কেয়ার হেড নাবিলা জাবীন খান, হোম কেয়ার হেড মো. নুরুল মনোয়ার, কাস্টমার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট (সিবিডি) হেড মো. শাদমান সাদিকিন এবং বাটা শু বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফারিয়া ইয়াসমিন। ইউনিলিভার ও অন্য একটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই জুরি প্যানেল মূল্যায়নে বহুমাত্রিক ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে ইউনিলিভার বাংলাদেশের হিউম্যান রিসোর্স ডিরেক্টর সৈয়দা দুরদানা কবির বলেন, “ভবিষ্যৎ সেই তরুণদের, যারা প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করতে, চেনা গণ্ডি ভাঙতে এবং সাহসী ভাবনাকে অর্থবহ ফলাফলে রূপ দিতে প্রস্তুত। ‘বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউএফএলপি ২০২৬’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এমন একটি প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছি, যারা আরও ডিজিটাল, তথ্যনির্ভর ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।”
‘ডিসরাপ্ট টু উইন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ‘বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউএফএলপি ২০২৬’ অংশগ্রহণকারীদের প্রচলিত চিন্তাধারাকে প্রশ্ন করা, বাজারের উদীয়মান প্রবণতা আগাম অনুধাবন এবং পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক বাস্তবতার জন্য উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করেছে।
এবারই প্রথম বিজমায়েস্ট্রোজ ও ইউএফএলপিকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশ, বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধান এবং ক্যারিয়ারের শুরুতেই নিয়োগের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সমন্বিত এই প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হয়। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় তরুণদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ইউনিলিভারের কার্যক্রম, ভোক্তাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিযোগিতার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত আবেদন, যোগ্যতা মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেখান থেকে নির্বাচিত শীর্ষ ৪৫ প্রার্থী নিবিড় বুটক্যাম্প ও ডিসকভারি সেন্টারে অংশ নেন। সেখানে তাঁরা মেন্টরশিপ সেশন, ফোকাস গ্রুপ আলোচনা, কার্যভিত্তিক কেস সমাধান এবং ব্যক্তিগত ও দলীয় মূল্যায়নে অংশ নেন।
মূল্যায়নের পর শীর্ষ ১৮ প্রার্থীকে ছয়টি দলে ভাগ করে গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তাঁদের প্রস্তাবিত সমাধানগুলো উদ্ভাবন, প্রাসঙ্গিকতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘লার্ন টু লিড’ রোডশো এবং র্যাডান্সি প্ল্যাটফর্মে দেশব্যাপী ওয়েবিনার আয়োজন করে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের ইউনিলিভারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের বিভিন্ন কর্মসূচি, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও এন্ট্রি-লেভেল চাকরির সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারীরা গো-টু-মার্কেট, ফাইন্যান্স, সাপ্লাই চেইন ও হিউম্যান রিসোর্স বিভাগে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাবেন। ভালো ফল করা প্রার্থীরা ইউএফএলপির চূড়ান্ত সাক্ষাৎকার পর্বে সরাসরি অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ইউনিলিভারের এন্ট্রি-লেভেল পদ এবং ইউনিলিভার লিডারশিপ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের সুযোগের জন্য বিবেচিত হবেন।
‘বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউএফএলপি ২০২৬’-এর মাধ্যমে ইউনিলিভার বাংলাদেশ নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কাজ করছে, যারা পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবনী সমাধান দিতে এবং ব্যবসা ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব রাখতে সক্ষম হবেন।









































